ল্যাব টেস্ট · সংক্রমণ
লেপ্টোস্পাইরা IgM টেস্ট (লেপ্টোস্পাইরোসিস)
লেপটোস্পাইরোসিস (ইঁদুর জ্বর) পরীক্ষা
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২ দিন সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
লেপটোস্পাইরোসিস (ইঁদুর জ্বর) পরীক্ষা
লেপ্টোস্পাইরোসিস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা লেপ্টোস্পাইরা নামের ব্যাকটেরিয়া থেকে হয় এবং সংক্রমিত প্রাণীর, বিশেষ করে ইঁদুরের, প্রস্রাব মেশা পানি বা মাটির মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে ও বন্যার পর এটি বেশি হয়। এতে হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে তীব্র ব্যথা ও চোখ লাল হয়, আর গুরুতর হলে কিডনি ও লিভার আক্রান্ত হতে পারে। এই টেস্টে ব্যাকটেরিয়াটির বিরুদ্ধে তৈরি IgM অ্যান্টিবডি ধরা পড়ে, যা সাম্প্রতিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- বন্যার পানিতে হাঁটার পর জ্বরের সঙ্গে পেশিতে ব্যথা হলে, বিশেষ করে পায়ের ডিমে (কাফ মাসল)
- যাঁরা পশুপাখি নিয়ে, কৃষিকাজে অথবা পয়োনালা বা ড্রেনের কাছে কাজ করেন তাঁদের জ্বর হলে
- জ্বরের সঙ্গে জন্ডিস থাকলে বা প্রস্রাব কমে গেলে
- জ্বরের অন্য টেস্টে কারণ পাওয়া না গেলে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
বিশেষ কোনো প্রস্তুতি লাগে না। জ্বর কবে শুরু হয়েছে এবং বন্যার পানি, ড্রেন, পশুপাখি বা ইঁদুরের সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না তা ডাক্তারকে জানান, কারণ এতে ফলাফল বুঝতে সুবিধা হয়।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক বাড়িতে আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প রক্তের নমুনা নেন। অল্প সময়েই কাজ শেষ হয়, আর সিল করা ও লেবেল লাগানো টিউবটি সরাসরি ল্যাবে যায়।
- রিপোর্ট
- ২ দিন সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
IgM পজিটিভ হলে সাম্প্রতিক লেপ্টোস্পাইরোসিস সংক্রমণের পক্ষে যায়। অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কয়েক দিন লাগে, তাই অসুস্থতার শুরুতে করা টেস্ট নেগেটিভ হতে পারে এবং আবার করতে হতে পারে। লেপ্টোস্পাইরোসিস অন্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ডাক্তার আপনার কিডনি ও লিভারের কাজও পরীক্ষা করতে পারেন। ডাক্তার আপনার উপসর্গের সঙ্গে মিলিয়ে সব ফলাফল একসঙ্গে ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: লেপ্টোস্পাইরা IgM টেস্ট (লেপ্টোস্পাইরোসিস); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)কিডনি ফাংশন টেস্ট, যাকে রেনাল ফাংশন টেস্ট (RFT)-ও বলা হয়, কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি। এটি দেখায় আপনার কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য কতটা ভালোভাবে ছেঁকে বের করছে। এতে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন মাপা হয়, যা কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে জমে; সঙ্গে মাপা হয় ইউরিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট, যেগুলোর ভারসাম্য কিডনি ঠিক রাখে। এটি ডাক্তারকে কিডনির সমস্যা শুরুতেই ধরতে এবং সময়ের সঙ্গে তা নজরে রাখতে সাহায্য করে।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)লিভার ফাংশন টেস্ট হলো কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি, যা দেখায় আপনার লিভার কতটা ভালো কাজ করছে এবং তাতে প্রদাহ বা ক্ষতি হয়েছে কি না। এতে মাপা হয় বিলিরুবিন, লিভারের এনজাইম ALT (SGPT), AST (SGOT) ও অ্যালকালাইন ফসফাটেজ, এবং মোট প্রোটিন, যার মধ্যে আছে অ্যালবুমিন, লিভারে তৈরি একটি প্রোটিন। সব মিলিয়ে এগুলো ডাক্তারকে লিভারের প্রদাহ, পিত্ত চলাচলে বাধা এবং লিভারের প্রোটিন তৈরির সমস্যা খুঁজতে সাহায্য করে।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E)ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন বা প্রস্রাবের রুটিন টেস্টে (ইউরিনালাইসিস নামেও পরিচিত) আপনার প্রস্রাব তিনভাবে দেখা হয়: দেখতে কেমন, এর রাসায়নিক উপাদান (যেমন প্রোটিন, সুগার ও অম্লতা) এবং মাইক্রোস্কোপের নিচে কোনো কোষ, ক্রিস্টাল বা ব্যাকটেরিয়া আছে কি না। এটি একটি সহজ প্রাথমিক টেস্ট, যাতে প্রস্রাবের সংক্রমণ (ইনফেকশন), কিডনির সমস্যা বা রক্তে বেশি সুগারের লক্ষণ ধরা পড়তে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এটি প্রায়ই থাকে।
- ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডিডেঙ্গু ইনফেকশন (বর্তমান বা অতীত)৳২৫০
- কালাজ্বর টেস্ট (rK39 র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট)কালাজ্বর শনাক্তকরণ৳৫৯০
অনেকে যা জানতে চান
লেপ্টোস্পাইরোসিস কীভাবে হয়?
সাধারণত সংক্রমিত প্রাণীর প্রস্রাব মেশা পানি, কাদা বা মাটির সংস্পর্শে এলে। ব্যাকটেরিয়া ত্বকের কাটা জায়গা দিয়ে অথবা চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকতে পারে।
লেপ্টোস্পাইরোসিসকে ‘র্যাট ফিভার’ (ইঁদুরজ্বর) বলা হয় কেন?
এই ব্যাকটেরিয়ার সবচেয়ে সাধারণ বাহকগুলোর একটি হলো ইঁদুর; তাদের প্রস্রাবের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে পানি ও মাটি দূষিত করে।
লেপ্টোস্পাইরোসিসে কি কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে?
হ্যাঁ। এর গুরুতর ধরনে জন্ডিস ও কিডনির সমস্যা হতে পারে, তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
লেপ্টোস্পাইরা IgM টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳২,৫০০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি লেপ্টোস্পাইরা IgM টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
লেপ্টোস্পাইরা IgM-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২ দিন সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
