ল্যাব টেস্ট · প্রস্রাব
ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E)
প্রস্রাবের ইনফেকশন ও কিডনি স্ক্রিনিং
- প্রস্রাবের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
প্রস্রাবের ইনফেকশন ও কিডনি স্ক্রিনিং
ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন বা প্রস্রাবের রুটিন টেস্টে (ইউরিনালাইসিস নামেও পরিচিত) আপনার প্রস্রাব তিনভাবে দেখা হয়: দেখতে কেমন, এর রাসায়নিক উপাদান (যেমন প্রোটিন, সুগার ও অম্লতা) এবং মাইক্রোস্কোপের নিচে কোনো কোষ, ক্রিস্টাল বা ব্যাকটেরিয়া আছে কি না। এটি একটি সহজ প্রাথমিক টেস্ট, যাতে প্রস্রাবের সংক্রমণ (ইনফেকশন), কিডনির সমস্যা বা রক্তে বেশি সুগারের লক্ষণ ধরা পড়তে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এটি প্রায়ই থাকে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলে, অথবা ঘন ঘন প্রস্রাব হলে
- কিডনির সমস্যার লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে প্রোটিন বা রক্ত আছে কি না দেখতে
- ডায়াবেটিস আছে বা হওয়ার ঝুঁকি আছে এমন মানুষের প্রস্রাবে সুগার আছে কি না দেখতে
- জ্বরের সঙ্গে কোমর বা পিঠে ব্যথা থাকলে, অথবা প্রস্রাব ঘোলা বা তীব্র গন্ধযুক্ত হলে
- গর্ভাবস্থায় এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকার দরকার নেই। সকালের প্রথম প্রস্রাব দেওয়া ভালো, কারণ তা বেশি ঘন থাকে। নমুনা নেওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন এবং প্রস্রাবের জায়গা পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। মাসিক চললে সংগ্রাহককে জানান, কারণ রক্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাড়িতে
- নমুনা
- প্রস্রাবের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক আপনাকে একটি পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত পাত্র দেন। প্রথমে টয়লেটে প্রস্রাব করা শুরু করুন, তারপর ভেতরের দিক স্পর্শ না করে মাঝের অংশের প্রস্রাব পাত্রে নিন এবং ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করুন। সংগ্রাহক পাত্রে লেবেল লাগিয়ে টেস্টের জন্য নিয়ে যান।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে প্রতিটি বিষয়, যেমন রং, প্রোটিন, সুগার, পাস সেল ও লোহিত রক্তকণিকা, ল্যাবের স্বাভাবিক মানের পাশে লেখা থাকে। পাস সেল ও ব্যাকটেরিয়া থাকলে প্রস্রাবের সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে, প্রোটিন বা রক্ত থাকলে কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, আর সুগার থাকলে রক্তে বেশি সুগারের ইঙ্গিত হতে পারে। নমুনা ঠিকমতো পরিষ্কারভাবে না নেওয়া হলেও কিছু কিছু জিনিস দেখা যায়। ডাক্তার ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন এবং ইউরিন কালচার বা রক্তের টেস্ট করতে বলতে পারেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E); প্রস্রাবের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ইউরিন কালচার ও সেনসিটিভিটি (Urine C/S)ইউরিন কালচারে দেখা হয় আপনার প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া বাড়ছে কি না। নমুনাটি জীবাণু জন্মানোর একটি বিশেষ মাধ্যমে রাখা হয়; ব্যাকটেরিয়া জন্মালে ল্যাব সেগুলো শনাক্ত করে এবং কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেগুলোকে মারতে পারে তা পরীক্ষা করে (সেনসিটিভিটি টেস্ট)। এতে প্রস্রাবের সংক্রমণ নিশ্চিত হয় এবং ডাক্তার এমন অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে পারেন যা কাজ করবে; অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়া (রেজিস্ট্যান্স) যত বাড়ছে, বিষয়টি তত জরুরি হচ্ছে।
- ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (ACR)কিডনির প্রাথমিক ক্ষতি (ডায়াবেটিস)৳৪৫০
- ইউরিন সুগার (প্রস্রাবে গ্লুকোজ)প্রস্রাবে সুগার৳১০০
- ইউরিন মাইক্রোঅ্যালবুমিনএই টেস্টে প্রস্রাবে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন খোঁজা হয়; অ্যালবুমিন একটি প্রোটিন। সুস্থ কিডনি প্রায় সব অ্যালবুমিন রক্তেই রেখে দেয়, তাই প্রস্রাবে সামান্য পাওয়া গেলেও তা কিডনির ক্ষতির আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে, প্রায়ই অন্য টেস্টে পরিবর্তন আসার আগেই। এটি মূলত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকা মানুষের জন্য করা হয়।
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)কিডনি ফাংশন টেস্ট, যাকে রেনাল ফাংশন টেস্ট (RFT)-ও বলা হয়, কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি। এটি দেখায় আপনার কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য কতটা ভালোভাবে ছেঁকে বের করছে। এতে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন মাপা হয়, যা কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে জমে; সঙ্গে মাপা হয় ইউরিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট, যেগুলোর ভারসাম্য কিডনি ঠিক রাখে। এটি ডাক্তারকে কিডনির সমস্যা শুরুতেই ধরতে এবং সময়ের সঙ্গে তা নজরে রাখতে সাহায্য করে।
- সিরাম ক্রিয়েটিনিনক্রিয়েটিনিন একটি বর্জ্য পদার্থ, যা পেশির স্বাভাবিক ক্ষয় থেকে তৈরি হয়। সুস্থ কিডনি এটি রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবে বের করে দেয়, তাই কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে এর মাত্রা বাড়ে। কিডনি কেমন কাজ করছে তা দেখার প্রধান রক্তের টেস্ট এটি, আর অনেক ল্যাব এ থেকে এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট (eGFR) হিসাব করে; এটি দেখায় কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত ছাঁকছে।
অনেকে যা জানতে চান
প্রস্রাবে পাস সেল থাকার মানে কী?
পাস সেল হলো শ্বেত রক্তকণিকা। সংখ্যা বেশি হলে প্রায়ই প্রস্রাবের সংক্রমণ বা প্রদাহের ইঙ্গিত দেয়। সংক্রমণ নিশ্চিত করতে এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে ডাক্তার ইউরিন কালচার দিতে পারেন।
মাঝের অংশের প্রস্রাব কেন নিতে হয়?
প্রস্রাবের প্রথম অংশ প্রস্রাবের রাস্তার মুখের চারপাশের ত্বকের জীবাণু ও কোষ ধুয়ে নিয়ে যায়। মাঝের অংশ নিলে নমুনা বেশি পরিষ্কার হয় এবং ফলাফল বেশি সঠিক আসে।
মাসিকের সময় কি প্রস্রাবের নমুনা দেওয়া যায়?
মাসিক শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো, কারণ রক্ত নমুনার সঙ্গে মিশে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। টেস্টটি জরুরি হলে সংগ্রাহক ও আপনার ডাক্তারকে জানান।
Urine R/E আর ইউরিন কালচারের পার্থক্য কী?
Urine R/E হলো সংক্রমণ ও অন্যান্য সমস্যার লক্ষণ খোঁজার একটি দ্রুত সার্বিক টেস্ট। ইউরিন কালচারে নমুনায় থাকা ব্যাকটেরিয়া জন্মানো হয় এবং দেখা হয় কোন অ্যান্টিবায়োটিক তাদের বিরুদ্ধে কাজ করবে।
ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E) টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১১০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E) টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক প্রস্রাবের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E)-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
