ল্যাব টেস্ট · সংক্রমণ
ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডি
ডেঙ্গু ইনফেকশন (বর্তমান বা অতীত)
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
ডেঙ্গু ইনফেকশন (বর্তমান বা অতীত)
ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীর যে দুই ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করে, এই টেস্টে সেগুলো খোঁজা হয়। IgM অ্যান্টিবডি সাধারণত অসুস্থতার মোটামুটি পঞ্চম দিন থেকে দেখা দেয় এবং সাম্প্রতিক সংক্রমণের (ইনফেকশন) ইঙ্গিত দেয়; আর IgG অ্যান্টিবডি পরে দেখা দেয় এবং আগের সংক্রমণের পর অনেক বছর থেকে যেতে পারে। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে IgG শুরুতেই দ্রুত বাড়তে পারে। এই ধরন দেখে ডাক্তার বুঝতে পারেন আপনার ডেঙ্গু এখন চলছে, সম্প্রতি হয়েছে, নাকি আগে হয়েছিল।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- মোটামুটি পাঁচ দিন বা তার বেশি জ্বর থাকলে এবং ডেঙ্গু সন্দেহ হলে
- NS1 টেস্ট নেগেটিভ এলেও ডেঙ্গুর সন্দেহ থেকে গেলে
- প্রথমবারের ডেঙ্গু আর আবার হওয়া ডেঙ্গু আলাদা করতে সাহায্য পেতে
- সাম্প্রতিক কোনো অসুস্থতা ডেঙ্গু ছিল কি না দেখতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকার দরকার নেই; স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। প্রস্তুতির চেয়ে সময়টা বেশি জরুরি: অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কয়েক দিন লাগে, তাই জ্বরের মোটামুটি পঞ্চম দিন থেকে এই টেস্ট সবচেয়ে কাজের, ডাক্তার যেভাবে বলেন। প্রচুর পানি ও তরল খেতে থাকুন এবং ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ চালিয়ে যান।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- অসুস্থ শরীরে আপনাকে বাড়ির বাইরে যেতে হয় না; সংগ্রাহক বাড়িতে এসে হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন। কয়েক মিনিটেই রক্ত নেওয়া শেষ হয়।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
IgM পজিটিভ হলে এখনকার বা সাম্প্রতিক ডেঙ্গু সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। IgG পজিটিভ আর IgM নেগেটিভ হলে সাধারণত আগের সংক্রমণ বোঝায়; আর অসুস্থতার শুরুতেই IgG পজিটিভ হলে আবার সংক্রমণ হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। অসুস্থতার শুরুতে ফলাফল নেগেটিভ এলেই ডেঙ্গু নেই বলা যায় না, কারণ তখনো অ্যান্টিবডি তৈরি না-ও হয়ে থাকতে পারে। ডাক্তার আপনার উপসর্গ, অসুস্থতার কততম দিন এবং ব্লাড কাউন্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডি; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেনডেঙ্গু NS1 টেস্টে রক্তে NS1 খোঁজা হয়; এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের তৈরি একটি প্রোটিন। জ্বরের প্রথম দিন থেকেই NS1 রক্তে থাকে, তাই এই টেস্টে ডেঙ্গু আগেভাগে ধরা পড়ে, সাধারণত অসুস্থতার প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই। ফলাফল পজিটিভ হলে ডাক্তার দ্রুত ডেঙ্গু নিশ্চিত করতে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
- প্লাটিলেট কাউন্টপ্লাটিলেট হলো রক্তের খুব ছোট কোষের টুকরা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তপাত থামাতে সাহায্য করে। এই টেস্টে আপনার রক্তের একটি নমুনায় কতগুলো প্লাটিলেট আছে তা গোনা হয়। ডেঙ্গু জ্বরের সময় প্লাটিলেট কমে যেতে পারে বলে তখন এটি প্রায়ই বারবার করা হয়; এ ছাড়া অকারণে কালশিটে পড়া বা রক্তপাতের কারণ খুঁজতে এবং কিছু ওষুধ ও অসুখের প্রভাব দেখতেও এটি করা হয়।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- ডেঙ্গু জ্বরের টেস্ট প্যাকেজডেঙ্গু সন্দেহ হলে যে তিনটি রক্তের টেস্ট করা হয়, এই প্যাকেজে সেগুলো একসঙ্গে আছে। NS1 অ্যান্টিজেন টেস্টে ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি অংশ ধরা পড়ে এবং জ্বরের প্রথম দিনগুলোতে এটি সবচেয়ে কাজে লাগে; আর IgM ও IgG অ্যান্টিবডির র্যাপিড কার্ড (ICT) টেস্টে অসুস্থতার পরের দিকে শরীরের সাড়া ধরা পড়ে এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না তা-ও বোঝা যেতে পারে। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টে প্লাটিলেট কাউন্ট ও হেমাটোক্রিট দেখা হয়, যেগুলোর দিকে ডাক্তাররা ডেঙ্গুর সময় কড়া নজর রাখেন।
- চিকুনগুনিয়া IgM অ্যান্টিবডি টেস্টচিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসের সংক্রমণ, যা এডিস মশা ছড়ায়; এই একই মশা ডেঙ্গুও ছড়ায়। এতে হঠাৎ জ্বর আসে এবং প্রায়ই গিঁটে তীব্র ব্যথা হয়, কখনো কখনো সঙ্গে র্যাশ ওঠে। এই টেস্টে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে শরীরের তৈরি IgM অ্যান্টিবডি খোঁজা হয়, যা সাধারণত অসুস্থতা শুরুর কয়েক দিন পর দেখা দেয়; তাই ফলাফল পজিটিভ হলে সাম্প্রতিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
- কালাজ্বর টেস্ট (rK39 র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট)কালাজ্বর শনাক্তকরণ৳৫৯০
অনেকে যা জানতে চান
ডেঙ্গুর অ্যান্টিবডি টেস্ট কখন করা উচিত?
জ্বরের মোটামুটি পঞ্চম দিন থেকে এটি সবচেয়ে কাজের, কারণ তখন সাধারণত IgM অ্যান্টিবডি ধরা পড়তে শুরু করে। প্রথম কয়েক দিনে NS1 টেস্টে ডেঙ্গু ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
IgG পজিটিভ আর IgM নেগেটিভ মানে কী?
এর মানে সাধারণত আপনার আগে ডেঙ্গু হয়েছিল এবং এখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ নেই। অন্য কোনো অসুখে জ্বর হচ্ছে কি না বুঝতে ডাক্তার আপনার উপসর্গ বিবেচনা করবেন।
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের। পরে অন্য ধরনের ভাইরাসে সংক্রমণ হলে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি হতে পারে, তাই আবার সংক্রমণ হলে ডাক্তাররা কড়া নজর রাখেন।
ডেঙ্গু IgM/IgG টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳২৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি ডেঙ্গু IgM/IgG টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
ডেঙ্গু IgM/IgG-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
