ল্যাব টেস্ট · লিভার
লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)
লিভারের কার্যক্ষমতা
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
লিভারের কার্যক্ষমতা
লিভার ফাংশন টেস্ট হলো কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি, যা দেখায় আপনার লিভার কতটা ভালো কাজ করছে এবং তাতে প্রদাহ বা ক্ষতি হয়েছে কি না। এতে মাপা হয় বিলিরুবিন, লিভারের এনজাইম ALT (SGPT), AST (SGOT) ও অ্যালকালাইন ফসফাটেজ, এবং মোট প্রোটিন, যার মধ্যে আছে অ্যালবুমিন, লিভারে তৈরি একটি প্রোটিন। সব মিলিয়ে এগুলো ডাক্তারকে লিভারের প্রদাহ, পিত্ত চলাচলে বাধা এবং লিভারের প্রোটিন তৈরির সমস্যা খুঁজতে সাহায্য করে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- জন্ডিস (চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া), গাঢ় প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে পায়খানা হলে
- হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার বা অ্যালকোহলের কারণে লিভারে প্রদাহ আছে কি না দেখতে
- লিভারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে
- পেটের ওপরের ডান দিকে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা অকারণ ক্লান্তি থাকলে
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
এই টেস্টের আগে স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন, আর কোনো ভেষজ ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খেলে ডাক্তারকে জানান, কারণ কিছু কিছু লিভারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক আপনার বাড়িতে হাতের শিরা থেকে অল্প রক্তের একটি নমুনা নেন, আর লিভারের সব টেস্ট সেই এক নমুনাতেই করা হয়। রক্ত নিতে মাত্র কয়েক মিনিট লাগে।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে প্রতিটি ফলাফলের পাশে ল্যাবের স্বাভাবিক সীমা থাকে। ALT ও AST বেশি হলে সাধারণত লিভারের কোষে প্রদাহ বা আঘাতের ইঙ্গিত দেয়, আর অ্যালকালাইন ফসফাটেজ বা বিলিরুবিন বেশি হলে পিত্ত চলাচলে সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। অ্যালবুমিন কম হলে দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ বা অপুষ্টির ইঙ্গিত হতে পারে। ডাক্তার শুধু একটি সংখ্যা নয়, সব ফলাফল মিলিয়ে দেখবেন এবং আরও টেস্ট দিতে পারেন।
যা যা আছে
এই টেস্টের রিপোর্টে থাকে ৭টি পরিমাপ:
- বিলিরুবিন (মোট ও ডাইরেক্ট)
- ALT (SGPT)
- AST (SGOT)
- অ্যালকালাইন ফসফাটেজ
- মোট প্রোটিন
- সিরাম অ্যালবুমিন
- গ্লোবুলিন ও A/G অনুপাত
সম্পর্কিত টেস্ট
- SGPT (অ্যালানিন অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, ALT)লিভারের স্বাস্থ্য৳১৫০
- SGOT (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, AST)লিভারের স্বাস্থ্য৳১৫০
- সিরাম বিলিরুবিন (টোটাল)জন্ডিস ও লিভার পরীক্ষা৳১৫০
- হেপাটাইটিস বি সারফেস অ্যান্টিজেন (HBsAg)HBsAg হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের গায়ে থাকা একটি প্রোটিন। এই টেস্টে আপনার রক্তে এটি খোঁজা হয়, যাতে জানা যায় আপনার এখন হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ আছে কি না। হেপাটাইটিস বি লিভারকে আক্রান্ত করে এবং অল্প দিনের বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে; দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ থাকা অনেকেই সুস্থ বোধ করেন এবং জানেনই না যে তাঁদের এটি আছে। ভাইরাসটি রক্তের মাধ্যমে, যৌন মিলনের মাধ্যমে এবং জন্মের সময় মা থেকে শিশুতে ছড়ায়; তাই গর্ভাবস্থায় এবং অপারেশন বা চাকরির আগে এই পরীক্ষা প্রায়ই করা হয়।
- গামা-গ্লুটামিল ট্রান্সফারেজ (GGT)লিভার ও পিত্তনালির স্বাস্থ্য৳৪৫০
- বিলিরুবিন (টোটাল, ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট)জন্ডিস ও লিভার পরীক্ষা৳৩৫০
অনেকে যা জানতে চান
SGPT ও SGOT-র পার্থক্য কী?
দুটিই এনজাইম, লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তে বের হয়। SGPT (ALT) মূলত লিভারে থাকে, আর SGOT (AST) পেশি ও হার্টেও থাকে; তাই SGPT লিভারের জন্য বেশি নির্দিষ্ট।
ফ্যাটি লিভারে কি LFT-র ফলাফল অস্বাভাবিক হতে পারে?
হ্যাঁ। SGPT সামান্য বেড়ে যাওয়ার একটি সাধারণ কারণ ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার থাকলেও কারও কারও ফলাফল স্বাভাবিক থাকে, তাই ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রামও করতে বলতে পারেন।
লিভার ফাংশন টেস্টের জন্য কি খালি পেটে থাকতে হয়?
সাধারণত না; স্বাভাবিকভাবে খেতে পারেন। একই সকালে খালি পেটের কোনো টেস্ট থাকলে নাশতার আগে নমুনা দিন, যাতে একবার রক্ত নিলেই দুটি হয়ে যায়।
ওষুধ কি লিভার টেস্টের ফলাফলে প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ। কিছু ওষুধ, যেমন কিছু ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, যক্ষ্মার ওষুধ ও কোলেস্টেরলের ওষুধ, লিভারের এনজাইম বাড়াতে পারে। ডাক্তারের সঙ্গে কথা না বলে কোনো ওষুধ বন্ধ বা বদল করবেন না।
LFT টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৫৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি LFT টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
LFT-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
