ল্যাব টেস্ট · প্রস্রাব
ইউরিন কালচার ও সেনসিটিভিটি (Urine C/S)
প্রস্রাবের ইনফেকশন ও সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক
- প্রস্রাবের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
প্রস্রাবের ইনফেকশন ও সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক
ইউরিন কালচারে দেখা হয় আপনার প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া বাড়ছে কি না। নমুনাটি জীবাণু জন্মানোর একটি বিশেষ মাধ্যমে রাখা হয়; ব্যাকটেরিয়া জন্মালে ল্যাব সেগুলো শনাক্ত করে এবং কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেগুলোকে মারতে পারে তা পরীক্ষা করে (সেনসিটিভিটি টেস্ট)। এতে প্রস্রাবের সংক্রমণ নিশ্চিত হয় এবং ডাক্তার এমন অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে পারেন যা কাজ করবে; অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়া (রেজিস্ট্যান্স) যত বাড়ছে, বিষয়টি তত জরুরি হচ্ছে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ বা তলপেটে ব্যথা হলে
- ইউরিন R/E-তে পাস সেল বা ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেলে
- প্রস্রাবের সংক্রমণ চিকিৎসায় না সারলে বা বারবার ফিরে এলে
- জ্বরের সঙ্গে পিঠে বা কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে, যা কিডনির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে
- গর্ভাবস্থায়, কারণ কোনো উপসর্গ ছাড়াও প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে পারে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
সম্ভব হলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগে নমুনা দিন, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক টেস্টে ব্যাকটেরিয়া জন্মানো থামিয়ে দিতে পারে। আগে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সংগ্রাহক ও ডাক্তারকে জানান, আর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া তা বন্ধ করবেন না। নমুনা নেওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন ও যৌনাঙ্গের জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন, আর সম্ভব হলে সকালের প্রথম প্রস্রাব দিন।
বাড়িতে
- নমুনা
- প্রস্রাবের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- আপনাকে একটি জীবাণুমুক্ত পাত্র দেওয়া হবে; এর ভেতরে বা ঢাকনায় হাত লাগাবেন না। প্রস্রাবের প্রথম অংশ টয়লেটে যেতে দিন, মাঝের অংশ পাত্রে নিন এবং সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা আটকে দিন। সংগ্রাহক নমুনায় লেবেল লাগিয়ে কালচারের জন্য নিয়ে যান।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জীবাণু না জন্মালে প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকার সম্ভাবনা কম। ব্যাকটেরিয়া জন্মালে রিপোর্টে সেগুলোর নাম থাকে এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিকে সেগুলো সেনসিটিভ আর কোনটিতে রেজিস্ট্যান্ট, তার তালিকা থাকে। কয়েক ধরনের ব্যাকটেরিয়া জন্মালে প্রায়ই বোঝায় নমুনায় বাইরের জীবাণু মিশেছে, আর তখন আবার টেস্ট করতে হতে পারে। ডাক্তার রিপোর্ট ব্যাখ্যা করবেন এবং চিকিৎসা ঠিক করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ইউরিন কালচার ও সেনসিটিভিটি (Urine C/S); প্রস্রাবের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E)প্রস্রাবের ইনফেকশন ও কিডনি স্ক্রিনিং৳১১০
- ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (ACR)এই টেস্টে প্রস্রাবের একটি নমুনায় অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের পরিমাণের সঙ্গে ক্রিয়েটিনিন নামের বর্জ্য পদার্থের পরিমাণের তুলনা করা হয়। সুস্থ কিডনি প্রস্রাবে খুব সামান্য অ্যালবুমিন যেতে দেয়, তাই এই অনুপাত বেড়ে যাওয়া কিডনির ক্ষতির সবচেয়ে আগের লক্ষণগুলোর একটি। অনুপাত ব্যবহার করলে প্রস্রাব কতটা ঘন বা পাতলা তার প্রভাব বাদ পড়ে, তাই সারা দিনের প্রস্রাব জমানোর বদলে একবারের নমুনাই ব্যবহার করা যায়।
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)কিডনি ফাংশন টেস্ট, যাকে রেনাল ফাংশন টেস্ট (RFT)-ও বলা হয়, কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি। এটি দেখায় আপনার কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য কতটা ভালোভাবে ছেঁকে বের করছে। এতে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন মাপা হয়, যা কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে জমে; সঙ্গে মাপা হয় ইউরিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট, যেগুলোর ভারসাম্য কিডনি ঠিক রাখে। এটি ডাক্তারকে কিডনির সমস্যা শুরুতেই ধরতে এবং সময়ের সঙ্গে তা নজরে রাখতে সাহায্য করে।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP), কোয়ান্টিটেটিভসি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP) একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ হলে লিভার তৈরি করে। সংক্রমণ বা আঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর মাত্রা বাড়তে পারে, আর সমস্যা কমে এলে আবার কমে যায়। কোয়ান্টিটেটিভ CRP টেস্টে সঠিক মাত্রাটি পাওয়া যায়; এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন প্রদাহ কতটা, সংক্রমণটি ব্যাকটেরিয়াজনিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কি না, এবং চিকিৎসা কাজ করছে কি না।
- ব্লাড কালচার ও সেনসিটিভিটিব্লাড কালচারে দেখা হয় রক্তে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট (ছত্রাক) আছে কি না। রক্ত বিশেষ বোতলে রাখা হয়, যাতে কোনো জীবাণু থাকলে তা বেড়ে উঠতে পারে; কিছু জন্মালে ল্যাব সেটি শনাক্ত করে এবং কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক তার বিরুদ্ধে কাজ করে তা পরীক্ষা করে (সেনসিটিভিটি)। টাইফয়েড জ্বর নিশ্চিত করার প্রচলিত টেস্ট এটিই, আর গুরুতর সংক্রমণে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে এটি ডাক্তারকে সাহায্য করে।
অনেকে যা জানতে চান
অ্যান্টিবায়োটিকের আগে কেন নমুনা দেওয়া উচিত?
সংক্রমণ পুরোপুরি না সারলেও অ্যান্টিবায়োটিক টেস্টে ব্যাকটেরিয়া জন্মানো থামিয়ে দিতে পারে, ফলে ভুলভাবে নেগেটিভ ফলাফল আসতে পারে। চিকিৎসার আগে নেওয়া নমুনায় সবচেয়ে পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যায়।
রিপোর্টে ‘সেনসিটিভ’ ও ‘রেজিস্ট্যান্ট’ মানে কী?
সেনসিটিভ মানে, যে ব্যাকটেরিয়া জন্মেছে তার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে বলে আশা করা যায়। রেজিস্ট্যান্ট মানে, সেটি কাজ করার সম্ভাবনা কম। ডাক্তার এই তালিকা দেখে চিকিৎসা বেছে নেন।
উপসর্গ থাকলেও কি ইউরিন কালচার নেগেটিভ হতে পারে?
হ্যাঁ। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন প্রস্রাবের অন্য কারণও থাকতে পারে, যেমন জ্বালা-যন্ত্রণা (ইরিটেশন), কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ বা কিডনির পাথর; আর সম্প্রতি অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও কালচার নেগেটিভ আসতে পারে। ডাক্তার অন্য কারণ খুঁজে দেখবেন।
Urine C/S টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৪৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি Urine C/S টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক প্রস্রাবের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
Urine C/S-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
