ল্যাব টেস্ট · জীবাণু পরীক্ষা
ব্লাড কালচার ও সেনসিটিভিটি
রক্তে ইনফেকশন ও সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ৫ দিন সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
রক্তে ইনফেকশন ও সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক
ব্লাড কালচারে দেখা হয় রক্তে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট (ছত্রাক) আছে কি না। রক্ত বিশেষ বোতলে রাখা হয়, যাতে কোনো জীবাণু থাকলে তা বেড়ে উঠতে পারে; কিছু জন্মালে ল্যাব সেটি শনাক্ত করে এবং কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক তার বিরুদ্ধে কাজ করে তা পরীক্ষা করে (সেনসিটিভিটি)। টাইফয়েড জ্বর নিশ্চিত করার প্রচলিত টেস্ট এটিই, আর গুরুতর সংক্রমণে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে এটি ডাক্তারকে সাহায্য করে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- কাঁপুনি বা শীত শীত লাগাসহ বেশি জ্বর হলে, বিশেষ করে তা বারবার ফিরে এলে
- টাইফয়েড জ্বর সন্দেহ হলে; এটি নিশ্চিত করার প্রধান টেস্ট ব্লাড কালচার
- গুরুতর কোনো সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে হলে
- হার্টের ভালভে সংক্রমণ (এন্ডোকার্ডাইটিস) সন্দেহ হলে
- অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার (রেজিস্ট্যান্স) আশঙ্কা থাকলে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
সম্ভব হলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগে নমুনা নেওয়া হয়, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বেড়ে ওঠা থামিয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকলে সংগ্রাহককে জানান, তবে ডাক্তারের দেওয়া কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না। স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন, আর ডাক্তার একাধিক সেট বোতলে নমুনা দিতে বলতে পারেন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- ত্বকের জীবাণু যাতে নমুনায় না ঢোকে, সে জন্য সংগ্রাহক অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে যত্ন করে ত্বক পরিষ্কার করেন, তারপর হাতের শিরা থেকে রক্ত নিয়ে বিশেষ কালচার বোতলে রাখেন। বোতলগুলোতে লেবেল লাগিয়ে ল্যাবের জন্য খাড়া করে রাখা হয়। কয়েক মিনিট লাগে।
- রিপোর্ট
- ৫ দিন সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
“নো গ্রোথ” (No growth) মানে ল্যাবে নির্ধারিত সময় রেখে দেওয়ার পরও কোনো জীবাণু জন্মায়নি। জীবাণু জন্মালে রিপোর্টে তার নাম থাকে এবং অ্যান্টিবায়োটিকগুলো সেনসিটিভ না রেজিস্ট্যান্ট তা লেখা থাকে; এ থেকে বোঝা যায় কোনগুলো কাজ করার সম্ভাবনা আছে। কখনো কখনো ত্বকের জীবাণু বোতলে ঢুকে যায়, তাই একটি অস্বাভাবিক ফলাফল এলে টেস্ট আবার করতে হতে পারে। ডাক্তার রিপোর্ট ব্যাখ্যা করবেন এবং চিকিৎসা ঠিক করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ব্লাড কালচার ও সেনসিটিভিটি; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP), কোয়ান্টিটেটিভসি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP) একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ হলে লিভার তৈরি করে। সংক্রমণ বা আঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর মাত্রা বাড়তে পারে, আর সমস্যা কমে এলে আবার কমে যায়। কোয়ান্টিটেটিভ CRP টেস্টে সঠিক মাত্রাটি পাওয়া যায়; এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন প্রদাহ কতটা, সংক্রমণটি ব্যাকটেরিয়াজনিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কি না, এবং চিকিৎসা কাজ করছে কি না।
- ভিডাল টেস্ট (Widal)ভিডাল টেস্টে টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড জ্বরের ব্যাকটেরিয়ার (Salmonella Typhi ও Paratyphi) বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি খোঁজা হয়। এটি বহু বছর ধরে ব্যবহার হচ্ছে, কিন্তু খুব নির্ভুল নয়: আগে টাইফয়েড হয়েছিল বা টাইফয়েডের টিকা নিয়েছেন অথবা অন্য সংক্রমণ আছে, এমন মানুষেরও এটি পজিটিভ আসতে পারে; আবার অসুখের শুরুতে নেগেটিভ আসতে পারে। টাইফয়েড নির্ণয়ে ব্লাড কালচার বেশি নির্ভরযোগ্য।
- ইউরিন কালচার ও সেনসিটিভিটি (Urine C/S)ইউরিন কালচারে দেখা হয় আপনার প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া বাড়ছে কি না। নমুনাটি জীবাণু জন্মানোর একটি বিশেষ মাধ্যমে রাখা হয়; ব্যাকটেরিয়া জন্মালে ল্যাব সেগুলো শনাক্ত করে এবং কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেগুলোকে মারতে পারে তা পরীক্ষা করে (সেনসিটিভিটি টেস্ট)। এতে প্রস্রাবের সংক্রমণ নিশ্চিত হয় এবং ডাক্তার এমন অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে পারেন যা কাজ করবে; অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়া (রেজিস্ট্যান্স) যত বাড়ছে, বিষয়টি তত জরুরি হচ্ছে।
- ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডিডেঙ্গু ইনফেকশন (বর্তমান বা অতীত)৳২৫০
- ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট (MP) ব্লাড ফিল্মম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ৳১৯০
অনেকে যা জানতে চান
অ্যান্টিবায়োটিকের আগে ব্লাড কালচার করা উচিত কেন?
অ্যান্টিবায়োটিক বোতলে ব্যাকটেরিয়ার বেড়ে ওঠা থামিয়ে দিতে পারে, ফলে সংক্রমণ থাকলেও ভুলভাবে ‘নো গ্রোথ’ ফলাফল আসতে পারে।
ব্লাড কালচারে ‘নো গ্রোথ’ মানে কী?
এর মানে আপনার নমুনা থেকে কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট জন্মায়নি। এতে রক্তে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে যায়, তবে ডাক্তার এরপরও আপনার উপসর্গ বিবেচনা করবেন।
রিপোর্টের সেনসিটিভিটি অংশটি কী?
জীবাণু জন্মালে ল্যাব সেগুলোকে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে পরীক্ষা করে। ‘সেনসিটিভ’ মানে অ্যান্টিবায়োটিকটি কাজ করার সম্ভাবনা আছে; ‘রেজিস্ট্যান্ট’ মানে কাজ করার সম্ভাবনা কম।
টাইফয়েডের জন্য ব্লাড কালচারই কি সবচেয়ে ভালো টেস্ট?
টাইফয়েড নিশ্চিত করার প্রচলিত টেস্ট এটিই, আর এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে অসুখের শুরুতে, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে। Typhidot ও ভিডালের মতো অ্যান্টিবডি টেস্ট কম নির্ভরযোগ্য।
ব্লাড কালচার টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১,৩৯০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি ব্লাড কালচার টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
ব্লাড কালচার-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ৫ দিন সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
