ল্যাব টেস্ট · লিভার
টোটাল প্রোটিন ও A/G রেশিও
রক্তের প্রোটিন, লিভার ও পুষ্টি
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
রক্তের প্রোটিন, লিভার ও পুষ্টি
এই টেস্টে আপনার রক্তে মোট প্রোটিনের পরিমাণ মাপা হয় এবং তা প্রধান দুই ভাগে দেখানো হয়: অ্যালবুমিন, যা লিভার তৈরি করে, আর গ্লোবুলিন, যার মধ্যে সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়া অ্যান্টিবডিও আছে। এরপর অ্যালবুমিন ও গ্লোবুলিনের অনুপাত (A/G রেশিও) দেওয়া হয়। এই মানগুলোর পরিবর্তন লিভার বা কিডনির রোগ, পুষ্টির সমস্যা, দীর্ঘদিনের প্রদাহ অথবা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা লিভার ফাংশন টেস্টের অংশ হিসেবে
- শরীর ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি বা অকারণে ওজন কমার কারণ খুঁজতে
- দীর্ঘদিনের সংক্রমণ, প্রদাহ বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার রোগ আছে কি না দেখতে
- গ্লোবুলিন বেশি হলে আরও খতিয়ে দেখতে, যেমন মায়েলোমার মতো অস্থিমজ্জার (বোন ম্যারো) রোগ আছে কি না
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
টোটাল প্রোটিন টেস্টের আগে খালি পেটে থাকার দরকার নেই। যেমন পানি খান তেমনই খান, কারণ পানিশূন্যতায় প্রোটিনের মান বেড়ে যেতে পারে; আর অন্য পরামর্শ না থাকলে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- একজন প্রশিক্ষিত সংগ্রাহক বাড়িতে আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন; কয়েক মিনিট লাগে। টোটাল প্রোটিন, অ্যালবুমিন ও গ্লোবুলিন সবই এই এক নমুনা থেকে বের করা হয়।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
A/G রেশিও কম হওয়ার মানে হতে পারে অ্যালবুমিন কম, যেমন লিভার বা কিডনির রোগে বা অপুষ্টিতে; অথবা গ্লোবুলিন বেশি, যেমন দীর্ঘদিনের সংক্রমণ, অটোইমিউন রোগ বা মায়েলোমার মতো কিছু ব্লাড ক্যানসারে। A/G রেশিও বেশি হওয়া তুলনায় কম দেখা যায় এবং তা গ্লোবুলিন কম থাকার কারণে হতে পারে। শুধু পানিশূন্যতার কারণেও টোটাল প্রোটিন বেশি আসতে পারে। ডাক্তার আপনার অন্য ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে পুরো ধরনটি ব্যাখ্যা করবেন এবং প্রোটিন ইলেকট্রোফোরেসিসের মতো আরও টেস্ট দিতে পারেন।
যা যা আছে
এই টেস্টের রিপোর্টে থাকে ৪টি পরিমাপ:
- মোট প্রোটিন
- সিরাম অ্যালবুমিন
- গ্লোবুলিন
- A/G অনুপাত
সম্পর্কিত টেস্ট
- সিরাম অ্যালবুমিনঅ্যালবুমিন রক্তের প্রধান প্রোটিন, যা লিভারে তৈরি হয়। এটি রক্তনালির ভেতরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং হরমোন, ওষুধ, ক্যালসিয়াম ও অন্য পদার্থ সারা শরীরে বহন করে। অ্যালবুমিন মাপলে ডাক্তার লিভারের কাজ, কিডনি বা অন্ত্র দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া এবং মানুষটির পুষ্টির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পান।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)লিভারের কার্যক্ষমতা৳৫৫০
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)কিডনি ফাংশন টেস্ট, যাকে রেনাল ফাংশন টেস্ট (RFT)-ও বলা হয়, কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি। এটি দেখায় আপনার কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য কতটা ভালোভাবে ছেঁকে বের করছে। এতে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন মাপা হয়, যা কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে জমে; সঙ্গে মাপা হয় ইউরিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট, যেগুলোর ভারসাম্য কিডনি ঠিক রাখে। এটি ডাক্তারকে কিডনির সমস্যা শুরুতেই ধরতে এবং সময়ের সঙ্গে তা নজরে রাখতে সাহায্য করে।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- এরিথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট (ESR)ESR টেস্টে মাপা হয় একটি লম্বা, সরু টিউবে নির্দিষ্ট সময়ে লোহিত রক্তকণিকা কত দ্রুত তলায় জমা হয়। শরীরে প্রদাহ থাকলে কিছু প্রোটিনের কারণে লোহিত রক্তকণিকা দলা বেঁধে দ্রুত নিচে নামে, তাই ESR বেড়ে যায়। এটি প্রদাহের একটি সহজ, সাধারণ সূচক, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ বোঝায় না; তাই ডাক্তাররা সাধারণত অন্য টেস্টের সঙ্গে এটি ব্যবহার করেন।
- সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP), কোয়ান্টিটেটিভসি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP) একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ হলে লিভার তৈরি করে। সংক্রমণ বা আঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর মাত্রা বাড়তে পারে, আর সমস্যা কমে এলে আবার কমে যায়। কোয়ান্টিটেটিভ CRP টেস্টে সঠিক মাত্রাটি পাওয়া যায়; এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন প্রদাহ কতটা, সংক্রমণটি ব্যাকটেরিয়াজনিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কি না, এবং চিকিৎসা কাজ করছে কি না।
অনেকে যা জানতে চান
গ্লোবুলিন কী?
গ্লোবুলিন হলো রক্তের একদল প্রোটিন, যার মধ্যে আছে অ্যান্টিবডি এবং পরিবহন ও রক্ত জমাট বাঁধার কাজে যুক্ত প্রোটিন। সাধারণত টোটাল প্রোটিন থেকে অ্যালবুমিন বাদ দিয়ে গ্লোবুলিন বের করা হয়।
A/G রেশিও কম হওয়ার মানে কী?
এর মানে গ্লোবুলিনের তুলনায় অ্যালবুমিন কম। অ্যালবুমিন কমে গেলে এমন হতে পারে, যেমন লিভার বা কিডনির রোগে; অথবা গ্লোবুলিন বেড়ে গেলে, যেমন দীর্ঘদিনের প্রদাহ বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু রোগে।
পানিশূন্যতা কি টোটাল প্রোটিনে প্রভাব ফেলতে পারে?
হ্যাঁ। শরীরে পানি কম থাকলে রক্ত বেশি ঘন হয়ে যায়, তাই টোটাল প্রোটিন ও অ্যালবুমিন আসলে যা তার চেয়ে বেশি দেখাতে পারে।
টোটাল প্রোটিন ও A/G রেশিও টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৫৯০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি টোটাল প্রোটিন ও A/G রেশিও টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
টোটাল প্রোটিন ও A/G রেশিও-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
