ল্যাব টেস্ট · লিভার
সিরাম অ্যালবুমিন
প্রোটিনের মাত্রা, লিভার ও পুষ্টি
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
প্রোটিনের মাত্রা, লিভার ও পুষ্টি
অ্যালবুমিন রক্তের প্রধান প্রোটিন, যা লিভারে তৈরি হয়। এটি রক্তনালির ভেতরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং হরমোন, ওষুধ, ক্যালসিয়াম ও অন্য পদার্থ সারা শরীরে বহন করে। অ্যালবুমিন মাপলে ডাক্তার লিভারের কাজ, কিডনি বা অন্ত্র দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া এবং মানুষটির পুষ্টির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পান।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- পা, গোড়ালি বা পেট ফুলে যাওয়ার কারণ খুঁজতে
- লিভারের রোগীদের লিভার ফাংশন টেস্টের অংশ হিসেবে
- নেফ্রোটিক সিনড্রোমের মতো কিডনির রোগে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে কি না দেখতে
- অসুস্থ, বয়স্ক বা ওজন কমছে এমন মানুষের পুষ্টির অবস্থা বুঝতে
- ক্যালসিয়ামের ফলাফল ব্যাখ্যায় সাহায্য করতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকতে হয় না; স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন। টেস্টের আগে শরীরে যেন পানিশূন্যতা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন, কারণ এতে অ্যালবুমিন আসলের চেয়ে বেশি দেখাতে পারে।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক বাড়িতে হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন। হাতের বাঁধনটি অল্প সময়ের জন্যই রাখা হয়, কারণ বেশিক্ষণ চেপে রাখলে প্রোটিনের ফলাফল সামান্য বাড়তে পারে।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
অ্যালবুমিন কম হওয়ার কারণ হতে পারে দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ, কিডনি বা অন্ত্র দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া, অপুষ্টি, অথবা যেকোনো গুরুতর অসুস্থতা বা প্রদাহ। অ্যালবুমিন বেশি হওয়া খুব কম দেখা যায় এবং সাধারণত পানিশূন্যতার কারণে হয়। অ্যালবুমিন ধীরে বদলায়, তাই এটি কয়েক দিনের নয়, কয়েক সপ্তাহের স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখায়। ডাক্তার লিভার ও কিডনির টেস্ট এবং আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: সিরাম অ্যালবুমিন; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- টোটাল প্রোটিন ও A/G রেশিওএই টেস্টে আপনার রক্তে মোট প্রোটিনের পরিমাণ মাপা হয় এবং তা প্রধান দুই ভাগে দেখানো হয়: অ্যালবুমিন, যা লিভার তৈরি করে, আর গ্লোবুলিন, যার মধ্যে সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়া অ্যান্টিবডিও আছে। এরপর অ্যালবুমিন ও গ্লোবুলিনের অনুপাত (A/G রেশিও) দেওয়া হয়। এই মানগুলোর পরিবর্তন লিভার বা কিডনির রোগ, পুষ্টির সমস্যা, দীর্ঘদিনের প্রদাহ অথবা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)লিভারের কার্যক্ষমতা৳৫৫০
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)কিডনি ফাংশন টেস্ট, যাকে রেনাল ফাংশন টেস্ট (RFT)-ও বলা হয়, কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি। এটি দেখায় আপনার কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য কতটা ভালোভাবে ছেঁকে বের করছে। এতে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন মাপা হয়, যা কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে জমে; সঙ্গে মাপা হয় ইউরিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট, যেগুলোর ভারসাম্য কিডনি ঠিক রাখে। এটি ডাক্তারকে কিডনির সমস্যা শুরুতেই ধরতে এবং সময়ের সঙ্গে তা নজরে রাখতে সাহায্য করে।
- ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (ACR)এই টেস্টে প্রস্রাবের একটি নমুনায় অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের পরিমাণের সঙ্গে ক্রিয়েটিনিন নামের বর্জ্য পদার্থের পরিমাণের তুলনা করা হয়। সুস্থ কিডনি প্রস্রাবে খুব সামান্য অ্যালবুমিন যেতে দেয়, তাই এই অনুপাত বেড়ে যাওয়া কিডনির ক্ষতির সবচেয়ে আগের লক্ষণগুলোর একটি। অনুপাত ব্যবহার করলে প্রস্রাব কতটা ঘন বা পাতলা তার প্রভাব বাদ পড়ে, তাই সারা দিনের প্রস্রাব জমানোর বদলে একবারের নমুনাই ব্যবহার করা যায়।
- সিরাম ক্যালসিয়ামএই টেস্টে আপনার রক্তে মোট ক্যালসিয়ামের পরিমাণ মাপা হয়। মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম দরকার, আবার স্নায়ু, পেশি ও হৃৎস্পন্দন ঠিকমতো কাজ করার জন্যও দরকার। প্যারাথাইরয়েড হরমোন ও ভিটামিন ডি এর মাত্রাকে খুব সীমিত একটি পরিসরের মধ্যে রাখে, তাই ফলাফল অস্বাভাবিক হলে তা এই হরমোনগুলো, কিডনি বা হাড়ের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
- ইউরিন প্রোটিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (PCR)এই টেস্টে প্রস্রাবের একটি নমুনায় মোট প্রোটিন ও ক্রিয়েটিনিন মেপে দুটির তুলনা করা হয়। ক্রিয়েটিনিন মোটামুটি একই হারে প্রস্রাবে আসে, তাই এই অনুপাত থেকে ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব জমা না করেই ভালোভাবে অনুমান করা যায় কিডনি সারা দিনে কতটা প্রোটিন হারাচ্ছে। কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত ছাঁকনি দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে কি না ধরতে এবং তা নজরে রাখতে ডাক্তার এটি ব্যবহার করেন।
অনেকে যা জানতে চান
অ্যালবুমিন কম হয় কেন?
সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে লিভারের রোগ, কিডনির এমন রোগ যাতে প্রস্রাবে প্রোটিন বেরিয়ে যায়, অপুষ্টি, গুরুতর সংক্রমণ ও অন্য গুরুতর অসুস্থতা।
অ্যালবুমিন কম হলে কি শরীর ফুলে যেতে পারে?
হ্যাঁ। অ্যালবুমিন রক্তনালির ভেতরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি কম হলে তরল টিস্যুতে বেরিয়ে এসে পা, গোড়ালি বা পেট ফুলে যেতে পারে।
ক্যালসিয়ামের সঙ্গে অ্যালবুমিন কেন দেখা হয়?
রক্তের ক্যালসিয়ামের বড় অংশ অ্যালবুমিনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। অ্যালবুমিন কম হলে মোট ক্যালসিয়াম কম দেখাতে পারে, তাই ল্যাব বা ডাক্তাররা প্রায়ই সমন্বয় করা ক্যালসিয়ামের মান ব্যবহার করেন।
অ্যালবুমিন টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১৯০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি অ্যালবুমিন টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
অ্যালবুমিন-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
