ল্যাব টেস্ট · সংক্রমণ
ম্যালেরিয়া অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্ট (Malaria ICT)
ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট একই দিনে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ
এই র্যাপিড টেস্টে রক্তে ম্যালেরিয়ার পরজীবীর তৈরি প্রোটিন (অ্যান্টিজেন) খোঁজা হয়। বেশির ভাগ টেস্ট প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম শনাক্ত করতে পারে, যে ধরনটিতে সবচেয়ে গুরুতর অসুস্থতা হয়, আর প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্সের মতো অন্য ধরনও ধরতে পারে। দ্রুত ফলাফল পেলে ডাক্তার দেরি না করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন; এটি প্রায়ই মাইক্রোস্কোপে দেখা ব্লাড ফিল্মের সঙ্গে করা হয়।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় থাকার বা সেখানে বেড়াতে যাওয়ার পর জ্বর, কাঁপুনি ও ঘাম হলে
- বাংলাদেশের যেসব পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী জেলায় ম্যালেরিয়া হয়, সম্প্রতি সেখানে গিয়ে থাকলে
- জ্বরের পরিষ্কার কোনো কারণ না পাওয়া গেলে, ম্যালেরিয়া আছে কি নেই তা নিশ্চিত হতে
- ডেঙ্গু বা টাইফয়েড থেকে ম্যালেরিয়াকে আলাদা করতে সাহায্য করতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
কোনো প্রস্তুতি লাগে না, স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। সম্প্রতি কোথাও গিয়ে থাকলে তারিখ ও জায়গাসহ ডাক্তারকে জানান, আর ম্যালেরিয়ার কোনো ওষুধ খেয়ে থাকলে তা-ও জানান।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক অল্প রক্তের নমুনা নেন, সাধারণত হাতের শিরা থেকে। কাজটি দ্রুত হয়, আর নমুনায় লেবেল লাগিয়ে সঙ্গে সঙ্গে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়।
- রিপোর্ট
- একই দিনে.
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
ফলাফল পজিটিভ হলে বোঝায় ম্যালেরিয়ার অ্যান্টিজেন পাওয়া গেছে, আর রিপোর্টে প্রায়ই লেখা থাকে পরজীবীটি সম্ভবত কোন ধরনের। ফলাফল নেগেটিভ হলে ম্যালেরিয়ার সম্ভাবনা কমে, তবে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না, বিশেষ করে পরজীবীর সংখ্যা কম থাকলে; তাই ডাক্তার আবার টেস্ট করাতে পারেন বা ব্লাড ফিল্ম করতে বলতে পারেন। কিছু অ্যান্টিজেন চিকিৎসার পর কয়েক সপ্তাহ রক্তে থেকে যায়, তাই রোগ সেরেছে কি না দেখতে এই টেস্ট ব্যবহার করা হয় না। ডাক্তার আপনার উপসর্গ ও ভ্রমণের ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ম্যালেরিয়া অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্ট (Malaria ICT); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট (MP) ব্লাড ফিল্মএই টেস্টে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে ম্যালেরিয়ার জীবাণু (প্যারাসাইট) খোঁজা হয়। এতে দেখা যায় কোন ধরনের ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে এবং মোটামুটি কতগুলো, যা ডাক্তারকে চিকিৎসা বেছে নিতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া মূলত দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য জেলাগুলোতে এবং কিছু সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়, তাই সম্প্রতি কোথায় গিয়েছিলেন তা রোগের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেনডেঙ্গু NS1 টেস্টে রক্তে NS1 খোঁজা হয়; এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের তৈরি একটি প্রোটিন। জ্বরের প্রথম দিন থেকেই NS1 রক্তে থাকে, তাই এই টেস্টে ডেঙ্গু আগেভাগে ধরা পড়ে, সাধারণত অসুস্থতার প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই। ফলাফল পজিটিভ হলে ডাক্তার দ্রুত ডেঙ্গু নিশ্চিত করতে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
- প্লাটিলেট কাউন্টপ্লাটিলেট হলো রক্তের খুব ছোট কোষের টুকরা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তপাত থামাতে সাহায্য করে। এই টেস্টে আপনার রক্তের একটি নমুনায় কতগুলো প্লাটিলেট আছে তা গোনা হয়। ডেঙ্গু জ্বরের সময় প্লাটিলেট কমে যেতে পারে বলে তখন এটি প্রায়ই বারবার করা হয়; এ ছাড়া অকারণে কালশিটে পড়া বা রক্তপাতের কারণ খুঁজতে এবং কিছু ওষুধ ও অসুখের প্রভাব দেখতেও এটি করা হয়।
- ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডিডেঙ্গু ইনফেকশন (বর্তমান বা অতীত)৳২৫০
- কালাজ্বর টেস্ট (rK39 র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট)কালাজ্বর শনাক্তকরণ৳৫৯০
অনেকে যা জানতে চান
ম্যালেরিয়া র্যাপিড টেস্ট আর ব্লাড ফিল্মের পার্থক্য কী?
ব্লাড ফিল্ম মাইক্রোস্কোপে দেখা হয় এবং এতে পরজীবী গোনা যায়, যা রোগ কতটা গুরুতর তা বুঝতে ও চিকিৎসা নজরে রাখতে সাহায্য করে। র্যাপিড টেস্ট দ্রুত ও সহজ, কিন্তু এতে পরজীবী গোনা হয় না।
চিকিৎসার পরও কি ম্যালেরিয়ার টেস্ট পজিটিভ থাকতে পারে?
হ্যাঁ। কিছু র্যাপিড টেস্ট পরজীবীর এমন একটি প্রোটিন ধরে, যা সফল চিকিৎসার পরও কয়েক সপ্তাহ রক্তে থেকে যেতে পারে; তাই চিকিৎসার অল্প পরে ফলাফল পজিটিভ হলেই সব সময় বোঝায় না যে সংক্রমণ এখনো সক্রিয়।
ঢাকায় কি ম্যালেরিয়া বেশি হয়?
ম্যালেরিয়া মূলত বাংলাদেশের পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হয়, ঢাকা শহরে নয়; এ কারণেই ডাক্তাররা সম্প্রতি কোথাও গিয়েছিলেন কি না জানতে চান।
ম্যালেরিয়া র্যাপিড টেস্ট টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৩৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি ম্যালেরিয়া র্যাপিড টেস্ট টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
ম্যালেরিয়া র্যাপিড টেস্ট-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের দিনই রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
