ল্যাব টেস্ট · সংক্রমণ
ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট (MP) ব্লাড ফিল্ম
ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ
এই টেস্টে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে ম্যালেরিয়ার জীবাণু (প্যারাসাইট) খোঁজা হয়। এতে দেখা যায় কোন ধরনের ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে এবং মোটামুটি কতগুলো, যা ডাক্তারকে চিকিৎসা বেছে নিতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া মূলত দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য জেলাগুলোতে এবং কিছু সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়, তাই সম্প্রতি কোথায় গিয়েছিলেন তা রোগের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, শীত শীত লাগা ও ঘাম হলে ম্যালেরিয়া আছে কি না দেখতে
- বাংলাদেশে বা বিদেশে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় থাকার বা বেড়ানোর পর জ্বর শুরু হলে
- ম্যালেরিয়ার র্যাপিড টেস্ট পজিটিভ বা অস্পষ্ট এলে এবং জীবাণুর ধরন নিশ্চিত করার দরকার হলে
- চিকিৎসা চলাকালে জীবাণু কমে যাচ্ছে কি না দেখতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকা বা বিশেষ কোনো প্রস্তুতির দরকার নেই। জ্বর বাড়ার জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই; ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলেই নমুনা নেওয়া যায়। সম্প্রতি ম্যালেরিয়ার কোনো ওষুধ খেয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান, কারণ তাতে জীবাণু খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- বাড়িতে আসা সংগ্রাহক হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন; কয়েক মিনিট লাগে। এরপর ল্যাবে এই নমুনা থেকে পরীক্ষার জন্য পুরু ও পাতলা ব্লাড ফিল্ম তৈরি করা হয়।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে লেখা থাকে ম্যালেরিয়ার জীবাণু দেখা গেছে কি না, আর দেখা গেলে কোন ধরনের, যেমন Plasmodium falciparum বা Plasmodium vivax, এবং কখনো কখনো কতগুলো। পজিটিভ ফলাফল ম্যালেরিয়া নিশ্চিত করে এবং দ্রুত চিকিৎসা দরকার, কারণ ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়া খুব তাড়াতাড়ি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। একটি ফিল্ম নেগেটিভ হলেই সব সময় ম্যালেরিয়া নেই বলা যায় না; জ্বর চলতে থাকলে ডাক্তার টেস্টটি আবার করতে বলতে পারেন। ডাক্তার আপনার উপসর্গ ও ভ্রমণের ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল দেখবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট (MP) ব্লাড ফিল্ম; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ম্যালেরিয়া অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্ট (Malaria ICT)ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ৳৩৫০
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেনডেঙ্গু NS1 টেস্টে রক্তে NS1 খোঁজা হয়; এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের তৈরি একটি প্রোটিন। জ্বরের প্রথম দিন থেকেই NS1 রক্তে থাকে, তাই এই টেস্টে ডেঙ্গু আগেভাগে ধরা পড়ে, সাধারণত অসুস্থতার প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই। ফলাফল পজিটিভ হলে ডাক্তার দ্রুত ডেঙ্গু নিশ্চিত করতে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
- পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম (PBF)পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে পাতলা করে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের আকার, আকৃতি ও চেহারা দেখা যায়, যা শুধু মেশিনের গণনা থেকে পুরোপুরি জানা যায় না। এটি ডাক্তারকে রক্তস্বল্পতার (অ্যানিমিয়া) ধরন ও কারণ বের করতে এবং রক্তের অন্য রোগ খুঁজতে সাহায্য করে।
- প্লাটিলেট কাউন্টপ্লাটিলেট হলো রক্তের খুব ছোট কোষের টুকরা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তপাত থামাতে সাহায্য করে। এই টেস্টে আপনার রক্তের একটি নমুনায় কতগুলো প্লাটিলেট আছে তা গোনা হয়। ডেঙ্গু জ্বরের সময় প্লাটিলেট কমে যেতে পারে বলে তখন এটি প্রায়ই বারবার করা হয়; এ ছাড়া অকারণে কালশিটে পড়া বা রক্তপাতের কারণ খুঁজতে এবং কিছু ওষুধ ও অসুখের প্রভাব দেখতেও এটি করা হয়।
- ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডিডেঙ্গু ইনফেকশন (বর্তমান বা অতীত)৳২৫০
অনেকে যা জানতে চান
ম্যালেরিয়ার ব্লাড ফিল্ম ও র্যাপিড টেস্টের পার্থক্য কী?
র্যাপিড টেস্ট ম্যালেরিয়ার প্রোটিন শনাক্ত করে এবং দ্রুত উত্তর দেয়। ব্লাড ফিল্মে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি সরাসরি জীবাণু দেখতে পান, ধরন নিশ্চিত করতে পারেন এবং কতগুলো আছে তা অনুমান করতে পারেন। ডাক্তাররা প্রায়ই দুটিই ব্যবহার করেন।
ম্যালেরিয়া থাকলেও কি টেস্ট নেগেটিভ আসতে পারে?
হ্যাঁ, বিশেষ করে অসুখের শুরুতে বা কিছু চিকিৎসা নেওয়ার পর, যখন জীবাণু কম থাকতে পারে। এরপরও ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলে ডাক্তার টেস্টটি আবার করাতে পারেন।
আমি ঢাকার বাইরে না গিয়ে থাকলে কি ম্যালেরিয়া টেস্ট লাগবে?
ঢাকা শহরের ভেতরে ম্যালেরিয়া খুব কম দেখা যায়। ম্যালেরিয়ার টেস্ট করাবেন, নাকি জ্বরের অন্য কারণ, যেমন ডেঙ্গু বা টাইফয়েডের টেস্ট করাবেন, তা ঠিক করার সময় ডাক্তার জানতে চাইবেন আপনি সম্প্রতি পাহাড়ি, বনাঞ্চল বা সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন কি না।
ম্যালেরিয়ায় কখন জরুরি চিকিৎসা নেব?
বিভ্রান্তি, ঝিমুনি, খিঁচুনি, শ্বাস নিতে কষ্ট, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, চোখ হলুদ হওয়া অথবা পানি বা তরল কিছুই পেটে রাখতে না পারলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। এগুলো গুরুতর ম্যালেরিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
MP টেস্ট টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১৯০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি MP টেস্ট টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
MP টেস্ট-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
