ল্যাব টেস্ট · রক্তের টেস্ট
প্লাটিলেট কাউন্ট
প্লাটিলেট কাউন্ট, রক্তপাত ও ডেঙ্গু
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
প্লাটিলেট কাউন্ট, রক্তপাত ও ডেঙ্গু
প্লাটিলেট হলো রক্তের খুব ছোট কোষের টুকরা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তপাত থামাতে সাহায্য করে। এই টেস্টে আপনার রক্তের একটি নমুনায় কতগুলো প্লাটিলেট আছে তা গোনা হয়। ডেঙ্গু জ্বরের সময় প্লাটিলেট কমে যেতে পারে বলে তখন এটি প্রায়ই বারবার করা হয়; এ ছাড়া অকারণে কালশিটে পড়া বা রক্তপাতের কারণ খুঁজতে এবং কিছু ওষুধ ও অসুখের প্রভাব দেখতেও এটি করা হয়।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- ডেঙ্গু জ্বরের সময় প্লাটিলেটের সংখ্যা নজরে রাখতে
- সহজেই কালশিটে পড়লে, অথবা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগ হলে
- অপারেশন বা অন্য কোনো প্রসিডিউরের আগে
- রক্তের রোগ বা কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করুন; এই টেস্টে খালি পেটে থাকার ব্যাপার নেই। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন, আর রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে বা রক্তপাতের সমস্যা থাকলে সংগ্রাহককে জানান, যাতে রক্ত নেওয়ার পর জায়গাটি বেশি সময় চেপে ধরা হয়।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- বাড়িতেই হাতের শিরা থেকে অল্প রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। ডেঙ্গুর মতো অবস্থায় যখন প্রতিদিন বা এক দিন পরপর কাউন্ট দেখতে হয়, তখন বাড়িতে নমুনা দিলে অসুস্থ শরীরে বারবার বাইরে যেতে হয় না।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে আপনার প্লাটিলেট কাউন্টের পাশে ল্যাবের স্বাভাবিক সীমা থাকে। ডেঙ্গু ও অন্য সংক্রমণ, কিছু ওষুধ, অস্থিমজ্জার সমস্যা বা প্লীহা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে কাউন্ট কমতে পারে, আর কাউন্ট খুব কমে গেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। সংক্রমণ, প্রদাহ বা আয়রনের অভাবের পর কাউন্ট বাড়তে পারে, কখনো কখনো অস্থিমজ্জার কোনো রোগেও। ডাক্তার শুধু একটি ফলাফল নয়, সময়ের সঙ্গে কাউন্ট কোন দিকে যাচ্ছে তা দেখবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: প্লাটিলেট কাউন্ট; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেনডেঙ্গু NS1 টেস্টে রক্তে NS1 খোঁজা হয়; এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের তৈরি একটি প্রোটিন। জ্বরের প্রথম দিন থেকেই NS1 রক্তে থাকে, তাই এই টেস্টে ডেঙ্গু আগেভাগে ধরা পড়ে, সাধারণত অসুস্থতার প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই। ফলাফল পজিটিভ হলে ডাক্তার দ্রুত ডেঙ্গু নিশ্চিত করতে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
- ডেঙ্গু IgM ও IgG অ্যান্টিবডিডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীর যে দুই ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করে, এই টেস্টে সেগুলো খোঁজা হয়। IgM অ্যান্টিবডি সাধারণত অসুস্থতার মোটামুটি পঞ্চম দিন থেকে দেখা দেয় এবং সাম্প্রতিক সংক্রমণের (ইনফেকশন) ইঙ্গিত দেয়; আর IgG অ্যান্টিবডি পরে দেখা দেয় এবং আগের সংক্রমণের পর অনেক বছর থেকে যেতে পারে। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে IgG শুরুতেই দ্রুত বাড়তে পারে। এই ধরন দেখে ডাক্তার বুঝতে পারেন আপনার ডেঙ্গু এখন চলছে, সম্প্রতি হয়েছে, নাকি আগে হয়েছিল।
- ডেঙ্গু জ্বরের টেস্ট প্যাকেজডেঙ্গু সন্দেহ হলে যে তিনটি রক্তের টেস্ট করা হয়, এই প্যাকেজে সেগুলো একসঙ্গে আছে। NS1 অ্যান্টিজেন টেস্টে ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি অংশ ধরা পড়ে এবং জ্বরের প্রথম দিনগুলোতে এটি সবচেয়ে কাজে লাগে; আর IgM ও IgG অ্যান্টিবডির র্যাপিড কার্ড (ICT) টেস্টে অসুস্থতার পরের দিকে শরীরের সাড়া ধরা পড়ে এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না তা-ও বোঝা যেতে পারে। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টে প্লাটিলেট কাউন্ট ও হেমাটোক্রিট দেখা হয়, যেগুলোর দিকে ডাক্তাররা ডেঙ্গুর সময় কড়া নজর রাখেন।
- পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম (PBF)পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে পাতলা করে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের আকার, আকৃতি ও চেহারা দেখা যায়, যা শুধু মেশিনের গণনা থেকে পুরোপুরি জানা যায় না। এটি ডাক্তারকে রক্তস্বল্পতার (অ্যানিমিয়া) ধরন ও কারণ বের করতে এবং রক্তের অন্য রোগ খুঁজতে সাহায্য করে।
- প্রোথ্রম্বিন টাইম ও INR (PT/INR)প্রোথ্রম্বিন টাইম (PT) টেস্টে মাপা হয় আপনার রক্ত জমাট বাঁধতে কত সময় লাগে। INR (ইন্টারন্যাশনাল নরমালাইজড রেশিও) হলো PT জানানোর একটি মানসম্মত পদ্ধতি, যাতে ভিন্ন ভিন্ন ল্যাবের ফলাফল তুলনা করা যায়। টেস্টটি লিভারে তৈরি রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানগুলো দেখে, যার কয়েকটির জন্য ভিটামিন কে লাগে। ডাক্তাররা এটি ব্যবহার করেন Warfarin-এর প্রভাব পর্যবেক্ষণে, অপারেশনের আগে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা দেখতে এবং লিভারের কাজ মূল্যায়নে সাহায্য পেতে।
অনেকে যা জানতে চান
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে কেন?
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট তৈরি কমে যেতে পারে এবং প্লাটিলেট নষ্ট হওয়া বেড়ে যেতে পারে। জ্বর কমে আসার সময়টাতে কাউন্ট প্রায়ই কমে যায়, তাই ডাক্তাররা ওই সময়ে ঘন ঘন এটি দেখেন।
প্লাটিলেট কাউন্ট আর CBC কি একই?
CBC-তে প্লাটিলেট কাউন্টের সঙ্গে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনও থাকে। শুধু প্লাটিলেট নজরে রাখার দরকার হলে কিছু ডাক্তার আলাদাভাবে প্লাটিলেট কাউন্ট দেন।
প্লাটিলেট কমে যাওয়ার লক্ষণ কী কী?
লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে সহজেই কালশিটে পড়া, ত্বকে ছোট ছোট লাল বা বেগুনি দাগ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা মাসিকে অস্বাভাবিক বেশি রক্ত যাওয়া। বেশি রক্তপাত হলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিন।
প্লাটিলেট কাউন্ট টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি প্লাটিলেট কাউন্ট টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
প্লাটিলেট কাউন্ট-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
