ল্যাব টেস্ট · লিভার
গামা-গ্লুটামিল ট্রান্সফারেজ (GGT)
লিভার ও পিত্তনালির স্বাস্থ্য
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
লিভার ও পিত্তনালির স্বাস্থ্য
গামা-গ্লুটামিল ট্রান্সফারেজ (GGT) একটি এনজাইম, যা মূলত লিভার ও পিত্তনালিতে থাকে। পিত্তনালি বন্ধ হলে বা তাতে জ্বালা হলে, লিভারের অনেক রোগে, এবং নিয়মিত অ্যালকোহল পান ও কিছু ওষুধের কারণে এটি বাড়ে। GGT লিভারের সমস্যায় সহজেই বাড়ে, কিন্তু কোন সমস্যা তা নির্দিষ্ট করে বলে না; তাই ডাক্তাররা এটি লিভারের অন্য টেস্টের সঙ্গে, বিশেষ করে অ্যালকালাইন ফসফাটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- বেড়ে যাওয়া অ্যালকালাইন ফসফাটেজ লিভার থেকে আসছে, নাকি হাড় থেকে, তা জানতে
- জন্ডিস, ফ্যাটি লিভার বা পিত্তনালির সমস্যা সন্দেহ হলে লিভার পরীক্ষার অংশ হিসেবে
- লিভারের ওপর অ্যালকোহলের প্রভাব খুঁজতে
- GGT বাড়াতে পারে এমন ওষুধ খাওয়ার সময় লিভার দেখতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
GGT-র জন্য খালি পেটে থাকতে হয় না। অ্যালকোহল GGT বাড়াতে পারে, তাই টেস্টের আগের কয়েক দিন পান না করাই ভালো, আর সাধারণত কতটা পান করেন তা ডাক্তারকে খোলাখুলি জানান। নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন, আর মৃগীরোগের কোনো ওষুধ খেলে তা জানান, কারণ কিছু ওষুধ GGT বাড়ায়।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক আপনার বাড়িতে কয়েক মিনিটে হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন। GGT প্রায়ই লিভারের অন্য এনজাইমের সঙ্গে করতে দেওয়া হয়, যেগুলো একই টিউব থেকে মাপা যায়।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে GGT-র পাশে ল্যাবের স্বাভাবিক সীমা থাকে। GGT বেশি হলে পিত্তনালির সমস্যা, ফ্যাটি লিভার, লিভারের প্রদাহ, অ্যালকোহল পান বা কিছু ওষুধের প্রভাবের ইঙ্গিত হতে পারে; আর GGT স্বাভাবিক কিন্তু ALP বেশি হলে ধারণা করা হয় ALP হাড় থেকে আসছে। শুধু GGT দেখে বলা যায় না কোন রোগটি আছে। ডাক্তার আপনার লিভারের অন্য টেস্ট ও ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: গামা-গ্লুটামিল ট্রান্সফারেজ (GGT); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- অ্যালকালাইন ফসফাটেজ (ALP)অ্যালকালাইন ফসফাটেজ (ALP) একটি এনজাইম, যা মূলত লিভারে, বিশেষ করে পিত্তনালির ভেতরের আবরণের কোষে, এবং হাড়ে থাকে। অল্প পরিমাণে আসে অন্ত্র থেকে, আর গর্ভাবস্থায় গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) থেকে। পিত্ত চলাচলে বাধা হলে বা হাড়ের কোষ খুব সক্রিয় থাকলে ALP বাড়ে, তাই এটি ডাক্তারকে লিভার ও হাড় দুই ধরনের সমস্যাই খুঁজতে সাহায্য করে।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)লিভারের কার্যক্ষমতা৳৫৫০
- SGPT (অ্যালানিন অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, ALT)SGPT, যাকে ALT (অ্যালানিন অ্যামিনোট্রান্সফারেজ)-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত লিভারের কোষের ভেতরে থাকে। লিভারের কোষে প্রদাহ বা ক্ষতি হলে SGPT রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। ভাইরাল হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহল বা ওষুধের মতো কারণে লিভারে প্রদাহ হয়েছে কি না ধরতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তের টেস্ট।
- SGOT (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, AST)SGOT, যাকে AST (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ)-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত লিভারে থাকে, তবে হার্ট, পেশি ও লোহিত রক্তকণিকাতেও থাকে। এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে AST রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। এটি শুধু লিভারে থাকে না বলে ডাক্তাররা সাধারণত AST-কে ALT (SGPT)-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, যা লিভারের জন্য বেশি নির্দিষ্ট।
- বিলিরুবিন (টোটাল, ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট)জন্ডিস ও লিভার পরীক্ষা৳৩৫০
- টোটাল প্রোটিন ও A/G রেশিওরক্তের প্রোটিন, লিভার ও পুষ্টি৳৫৯০
অনেকে যা জানতে চান
GGT বেশি মানেই কি আমি বেশি অ্যালকোহল পান করি?
তা না-ও হতে পারে। অ্যালকোহল একটি সাধারণ কারণ, তবে ফ্যাটি লিভার, পিত্তনালির সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও কিছু ওষুধও GGT বাড়াতে পারে।
অ্যালকালাইন ফসফাটেজের সঙ্গে GGT কেন করা হয়?
পিত্তনালির সমস্যায় দুটিই বাড়ে, কিন্তু হাড়ের রোগে শুধু ALP বাড়ে। GGT দেখলে ডাক্তার বুঝতে পারেন বেশি ALP লিভার থেকে আসছে, নাকি হাড় থেকে।
বেড়ে যাওয়া GGT কি কমে?
হ্যাঁ। কারণটি দূর হলে বা তার চিকিৎসা হলে, যেমন কেউ অ্যালকোহল পান বন্ধ করলে, পরের কয়েক সপ্তাহে GGT সাধারণত কমে আসে। দেখার জন্য ডাক্তার টেস্টটি আবার করাতে পারেন।
GGT টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৪৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি GGT টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
GGT-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
