ল্যাব টেস্ট · লিভার
বিলিরুবিন (টোটাল, ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট)
জন্ডিস ও লিভার পরীক্ষা
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
জন্ডিস ও লিভার পরীক্ষা
বিলিরুবিন একটি হলুদ পদার্থ, যা পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে তৈরি হয়। এটি লিভারে যায়, আর লিভার একে এমন রূপে বদলে দেয় যা পিত্তের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এই টেস্টে মোট বিলিরুবিন ও এর দুটি অংশ মাপা হয়: ডাইরেক্ট (লিভার যা প্রক্রিয়াজাত করেছে) ও ইনডাইরেক্ট (যা এখনো প্রক্রিয়াজাত হয়নি); এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন কারও জন্ডিস কেন হয়েছে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- জন্ডিসের কারণ খুঁজতে, অর্থাৎ ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে গেলে
- প্রস্রাব গাঢ়, পায়খানা ফ্যাকাশে হলে বা চুলকানি থাকলে
- ভাইরাল হেপাটাইটিসের মতো লিভারের রোগ আছে কি না দেখতে
- পিত্তথলির পাথর বা অন্য কিছু পিত্তনালি আটকে দিচ্ছে কি না দেখতে
- লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে কি না বা গিলবার্ট সিনড্রোম আছে কি না দেখতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকতে হয় না, বরং স্বাভাবিকভাবে খাওয়াই ভালো, কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কারও কারও বিলিরুবিন বাড়তে পারে। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- জন্ডিসের কারণে আপনি বিছানায় বিশ্রামে থাকলে সংগ্রাহক সেখানেই নমুনা নিতে পারেন। হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেওয়া হয়; কয়েক মিনিট লাগে।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
ইনডাইরেক্ট বিলিরুবিন বেশি হলে প্রায়ই লোহিত রক্তকণিকার দ্রুত ভাঙন অথবা গিলবার্ট সিনড্রোমের ইঙ্গিত দেয়; এটি একটি সাধারণ ও নিরীহ বংশগত অবস্থা। ডাইরেক্ট বিলিরুবিন বেশি হলে সাধারণত লিভারের সমস্যা, যেমন হেপাটাইটিস, অথবা পিত্তনালিতে বাধার ইঙ্গিত দেয়, যেমন পিত্তথলির পাথরের কারণে। দুটি অংশের ধরন দেখে ডাক্তার ঠিক করেন আর কোন কোন টেস্ট লাগবে। ডাক্তার আপনার উপসর্গ ও লিভারের অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
এই টেস্টের রিপোর্টে থাকে ৩টি পরিমাপ:
- মোট বিলিরুবিন
- ডাইরেক্ট বিলিরুবিন
- ইনডাইরেক্ট বিলিরুবিন
সম্পর্কিত টেস্ট
- সিরাম বিলিরুবিন (টোটাল)বিলিরুবিন একটি হলুদ রঞ্জক, যা পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে তৈরি হয়। লিভার এটিকে প্রক্রিয়াজাত করে পিত্তে পাঠায়, আর পিত্ত পায়খানার সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিন খুব বেশি তৈরি হলে, অথবা লিভার তা প্রক্রিয়াজাত করতে বা বের করে দিতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বাড়ে এবং ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে (জন্ডিস)। এই টেস্টে আপনার রক্তে মোট বিলিরুবিনের পরিমাণ মাপা হয়।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)লিভারের কার্যক্ষমতা৳৫৫০
- SGPT (অ্যালানিন অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, ALT)SGPT, যাকে ALT (অ্যালানিন অ্যামিনোট্রান্সফারেজ)-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত লিভারের কোষের ভেতরে থাকে। লিভারের কোষে প্রদাহ বা ক্ষতি হলে SGPT রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। ভাইরাল হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহল বা ওষুধের মতো কারণে লিভারে প্রদাহ হয়েছে কি না ধরতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তের টেস্ট।
- হেপাটাইটিস ই IgM অ্যান্টিবডি (Anti-HEV IgM)এই রক্তের টেস্টে হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের IgM অ্যান্টিবডি ধরা পড়ে, যা সাম্প্রতিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। হেপাটাইটিস ই মূলত দূষিত খাবার পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং বাংলাদেশে জন্ডিসের একটি সাধারণ কারণ; বন্যার পর বা পানি সরবরাহে সমস্যা হলে প্রায়ই এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বেশির ভাগ মানুষ নিজে থেকেই সেরে ওঠেন, তবে গর্ভাবস্থায় এই সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।
- হেপাটাইটিস এ IgM অ্যান্টিবডি (Anti-HAV IgM)এই রক্তের টেস্টে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে IgM অ্যান্টিবডি খোঁজা হয়। শরীর সংক্রমণের শুরুতেই IgM তৈরি করে, তাই ফলাফল পজিটিভ হলে সাম্প্রতিক বা চলমান হেপাটাইটিস এ সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। হেপাটাইটিস এ ছড়ায় মল দিয়ে দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে, আর এটি জন্ডিসের একটি সাধারণ কারণ, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
- হেপাটাইটিস বি সারফেস অ্যান্টিজেন (HBsAg)HBsAg হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের গায়ে থাকা একটি প্রোটিন। এই টেস্টে আপনার রক্তে এটি খোঁজা হয়, যাতে জানা যায় আপনার এখন হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ আছে কি না। হেপাটাইটিস বি লিভারকে আক্রান্ত করে এবং অল্প দিনের বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে; দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ থাকা অনেকেই সুস্থ বোধ করেন এবং জানেনই না যে তাঁদের এটি আছে। ভাইরাসটি রক্তের মাধ্যমে, যৌন মিলনের মাধ্যমে এবং জন্মের সময় মা থেকে শিশুতে ছড়ায়; তাই গর্ভাবস্থায় এবং অপারেশন বা চাকরির আগে এই পরীক্ষা প্রায়ই করা হয়।
অনেকে যা জানতে চান
ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট বিলিরুবিনের পার্থক্য কী?
ইনডাইরেক্ট বিলিরুবিন লিভারে এখনো প্রক্রিয়াজাত হয়নি। ডাইরেক্ট বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত হয়েছে এবং পিত্তের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। কোনটি বেড়েছে তা দেখে বোঝা যায় সমস্যা কোথায়।
গিলবার্ট সিনড্রোম কী?
গিলবার্ট সিনড্রোম একটি সাধারণ বংশগত অবস্থা, যেখানে লিভার বিলিরুবিন ধীরে প্রক্রিয়াজাত করে। এতে ইনডাইরেক্ট বিলিরুবিন সামান্য বাড়ে, বিশেষ করে না খেয়ে থাকলে বা অসুস্থ হলে, আর এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
জন্ডিসে প্রস্রাব গাঢ় হয় কেন?
রক্তে ডাইরেক্ট বিলিরুবিন জমলে তার কিছু অংশ প্রস্রাবে চলে যায় এবং প্রস্রাব গাঢ় করে। ইনডাইরেক্ট বিলিরুবিন প্রস্রাবে যায় না।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্ডিসের সাধারণ কারণ কী কী?
সাধারণ কারণের মধ্যে আছে ভাইরাল হেপাটাইটিস, যেমন হেপাটাইটিস এ, বি ও ই, পিত্তনালি আটকে দেওয়া পিত্তথলির পাথর, অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগ এবং লোহিত রক্তকণিকার ভাঙন। ডাক্তার কারণটি খুঁজে দেখবেন।
বিলিরুবিন টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৩৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি বিলিরুবিন টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
বিলিরুবিন-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
