ল্যাব টেস্ট · হার্ট
ক্রিয়েটিন কাইনেজ (CK, CPK)
পেশির ক্ষতি নির্ণয়
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
পেশির ক্ষতি নির্ণয়
ক্রিয়েটিন কাইনেজ (CK), যাকে CPK-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত হাড়ের সঙ্গে যুক্ত পেশিতে থাকে; অল্প পরিমাণে হার্ট ও মস্তিষ্কেও থাকে। পেশিতে আঘাত বা প্রদাহ হলে CK রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। আঘাত, ভারী ব্যায়াম, প্রদাহ, বংশগত পেশির রোগ বা কিছু ওষুধ, যে কারণেই হোক, পেশির ক্ষতি খুঁজে বের করতে ও নজরে রাখতে এই টেস্ট ডাক্তারকে সাহায্য করে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা গাঢ় রঙের প্রস্রাবের কারণ খুঁজতে
- স্ট্যাটিন (কোলেস্টেরলের একটি ওষুধ) খাওয়ার সময় পেশিতে ব্যথা দেখা দিলে
- চাপা পড়ে আঘাত, পড়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা খুব কঠোর ব্যায়ামের পর
- পেশির প্রদাহ (মায়োসাইটিস) বা বংশগত পেশির রোগ আছে কি না দেখতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকার দরকার নেই। টেস্টের আগের কয়েক দিন কঠিন ব্যায়াম বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে CK বাড়তে পারে। সম্প্রতি পেশিতে কোনো ইনজেকশন নিলে, পড়ে গেলে বা আঘাত পেলে ডাক্তারকে জানান, আর ডাক্তার অন্য কিছু না বললে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক এলে হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেওয়া হয়; কয়েক মিনিট লাগে। পেশিতে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব খুব গাঢ় বা কোলার মতো রঙের হলে সাধারণ টেস্টের অপেক্ষায় না থেকে জরুরি চিকিৎসা নিন।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
CK বেশি হলে বোঝা যায় পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পেশিতে চাপ পড়েছে, কিন্তু কেন তা বোঝা যায় না। ব্যায়াম, ইনজেকশন বা আঘাতের পর সামান্য বাড়া প্রায়ই দেখা যায়; আর পেশি মারাত্মকভাবে ভেঙে গেলে (র্যাবডোমায়োলাইসিস) মাত্রা খুব বেশি হতে পারে, যা কিডনির ক্ষতি করতে পারে। যাঁদের পেশি বেশি, তাঁদের CK স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। ডাক্তার আপনার উপসর্গ, ওষুধ ও কিডনির কার্যকারিতার মতো অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ক্রিয়েটিন কাইনেজ (CK, CPK); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেজ (LDH)ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেজ (LDH) একটি এনজাইম, যা শরীরের প্রায় সব কোষে থাকে, যেমন লোহিত রক্তকণিকা, লিভার, পেশি, হার্ট ও ফুসফুসে। কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ভেঙে গেলে LDH রক্তে বেরিয়ে আসে। মাত্রা বেশি হলে বোঝা যায় শরীরের কোথাও টিস্যুর ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু কোথায় তা বোঝা যায় না; তাই ডাক্তাররা অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ব্যবহার করেন।
- SGOT (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, AST)SGOT, যাকে AST (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ)-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত লিভারে থাকে, তবে হার্ট, পেশি ও লোহিত রক্তকণিকাতেও থাকে। এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে AST রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। এটি শুধু লিভারে থাকে না বলে ডাক্তাররা সাধারণত AST-কে ALT (SGPT)-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, যা লিভারের জন্য বেশি নির্দিষ্ট।
- সিরাম পটাশিয়াম (K)পটাশিয়াম একটি খনিজ, যা হার্ট, পেশি ও স্নায়ুর ঠিকমতো কাজ করার জন্য দরকার। কিডনি রক্তের পটাশিয়ামকে একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে রাখে, আর মাত্রা খুব বেশি বা খুব কম হলে হৃৎস্পন্দনে প্রভাব পড়তে পারে। এই টেস্টে আপনার রক্তের পটাশিয়াম মাপা হয়; কিডনির রোগে এবং পটাশিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ যাঁরা খান, তাঁদের এটি প্রায়ই দেখা হয়।
- থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH)TSH একটি হরমোন, যা মস্তিষ্কের নিচের দিকে থাকা পিটুইটারি গ্রন্থি তৈরি করে। এটি গলার থাইরয়েড গ্রন্থিকে জানায় কতটা থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে হবে। থাইরয়েড কম কাজ করলে পিটুইটারি তাকে আরও সক্রিয় করতে বেশি TSH তৈরি করে; থাইরয়েড বেশি কাজ করলে TSH কমে যায়। তাই থাইরয়েডের সমস্যা খুঁজতে এবং থাইরয়েডের চিকিৎসা ঠিক চলছে কি না দেখতে TSH-ই প্রথম ও প্রধান টেস্ট।
- সিরাম ইলেকট্রোলাইটএই টেস্টে আপনার রক্তের সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ও বাইকার্বোনেট মাপা হয়। এই ইলেকট্রোলাইটগুলো বৈদ্যুতিক চার্জ বহনকারী লবণ, যা শরীরে পানির ভারসাম্য, স্নায়ু ও পেশির কাজ, হৃৎস্পন্দন এবং রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিডনি এগুলোকে খুব সীমিত একটি পরিসরের মধ্যে রাখে, তাই মাত্রা অস্বাভাবিক হলে তা পানিশূন্যতা, কিডনির সমস্যা বা ওষুধের প্রভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
- অ্যাপোলাইপোপ্রোটিন B (ApoB)খারাপ কোলেস্টেরল কণা, হার্টের ঝুঁকি৳২,০৭০
অনেকে যা জানতে চান
ব্যায়ামে কি CPK বাড়তে পারে?
হ্যাঁ। কঠিন বা অনভ্যস্ত ব্যায়াম, বিশেষ করে ওজন তোলা বা লম্বা দৌড়, কয়েক দিনের জন্য CK বাড়াতে পারে। ফলাফল যাতে ভুলভাবে বোঝা না হয়, সে জন্য সাম্প্রতিক ব্যায়ামের কথা ডাক্তারকে জানান।
হার্ট অ্যাটাক নির্ণয়ে কি CPK ব্যবহার করা হয়?
এখন আর প্রধান টেস্ট হিসেবে নয়। হার্ট অ্যাটাকের জন্য এখন ট্রপোনিন রক্তের টেস্টটিই বেশি পছন্দের, কারণ এটি হার্টের পেশির জন্য বেশি নির্দিষ্ট।
আমি স্ট্যাটিন খেলে ডাক্তার কেন CPK দেখতে পারেন?
স্ট্যাটিনে কখনো কখনো পেশির সমস্যা হতে পারে। পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দিলে ওষুধটি আপনার পেশির ওপর প্রভাব ফেলছে কি না বুঝতে CK টেস্ট ডাক্তারকে সাহায্য করে। ডাক্তারের সঙ্গে কথা না বলে কোনো ওষুধ বন্ধ বা বদল করবেন না।
CPK টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৫৯০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি CPK টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
CPK-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
