ল্যাব টেস্ট · হার্ট
ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেজ (LDH)
কোষ ও টিস্যুর ক্ষতির মার্কার
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
কোষ ও টিস্যুর ক্ষতির মার্কার
ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেজ (LDH) একটি এনজাইম, যা শরীরের প্রায় সব কোষে থাকে, যেমন লোহিত রক্তকণিকা, লিভার, পেশি, হার্ট ও ফুসফুসে। কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ভেঙে গেলে LDH রক্তে বেরিয়ে আসে। মাত্রা বেশি হলে বোঝা যায় শরীরের কোথাও টিস্যুর ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু কোথায় তা বোঝা যায় না; তাই ডাক্তাররা অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ব্যবহার করেন।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- কিছু ধরনের রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাচ্ছে কি না (হিমোলাইসিস) দেখতে
- লিম্ফোমার মতো কিছু ক্যানসার ও তার চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে
- লিভার, পেশি, ফুসফুস বা হার্টের রোগে টিস্যুর ক্ষতির একটি সাধারণ সূচক হিসেবে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
এই টেস্টের জন্য খালি পেটে থাকা বা অন্য কোনো বিশেষ প্রস্তুতির দরকার নেই। টেস্টের ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম করবেন না, কারণ এতে পেশি থেকে LDH বাড়তে পারে। ডাক্তার অন্য পরামর্শ না দিলে নিয়মিত ওষুধ স্বাভাবিকভাবে খান।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- বাড়িতে এসে সংগ্রাহক আপনার হাতের শিরা থেকে আস্তে আস্তে অল্প রক্ত নেন। টিউবের মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে LDH বেরিয়ে এসে ফলাফল ভুলভাবে বেশি দেখাতে পারে; তখন আবার নমুনা দিতে হতে পারে।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে আপনার LDH-এর পাশে ল্যাবের স্বাভাবিক সীমা থাকে। মাত্রা বেশি হলে হিমোলাইসিস, লিভারের রোগ, পেশির আঘাত, ফুসফুস বা হার্টের ক্ষতি, কিছু সংক্রমণ বা কিছু ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে, কিন্তু কোনটি তা এ থেকে বলা যায় না। নমুনার মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলেও ফলাফল ভুলভাবে বেশি আসতে পারে। ডাক্তার আপনার উপসর্গ ও অন্য ফলাফল, যেমন ব্লাড কাউন্ট, রেটিকুলোসাইট কাউন্ট বা লিভারের টেস্ট, মিলিয়ে LDH ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেজ (LDH); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- রেটিকুলোসাইট কাউন্টরেটিকুলোসাইট হলো অল্প বয়সী লোহিত রক্তকণিকা, যা সবেমাত্র অস্থিমজ্জা থেকে বের হয়েছে; এক-দুই দিনের মধ্যে এগুলো পূর্ণাঙ্গ লোহিত রক্তকণিকা হয়ে ওঠে। এগুলো গুনলে বোঝা যায় আপনার অস্থিমজ্জা কতটা সক্রিয়ভাবে নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করছে। এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন রক্তস্বল্পতা অস্থিমজ্জা যথেষ্ট কোষ তৈরি না করার কারণে হচ্ছে, নাকি শরীর থেকে কোষ হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার কারণে।
- পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম (PBF)পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে পাতলা করে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের আকার, আকৃতি ও চেহারা দেখা যায়, যা শুধু মেশিনের গণনা থেকে পুরোপুরি জানা যায় না। এটি ডাক্তারকে রক্তস্বল্পতার (অ্যানিমিয়া) ধরন ও কারণ বের করতে এবং রক্তের অন্য রোগ খুঁজতে সাহায্য করে।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)লিভার ফাংশন টেস্ট হলো কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি, যা দেখায় আপনার লিভার কতটা ভালো কাজ করছে এবং তাতে প্রদাহ বা ক্ষতি হয়েছে কি না। এতে মাপা হয় বিলিরুবিন, লিভারের এনজাইম ALT (SGPT), AST (SGOT) ও অ্যালকালাইন ফসফাটেজ, এবং মোট প্রোটিন, যার মধ্যে আছে অ্যালবুমিন, লিভারে তৈরি একটি প্রোটিন। সব মিলিয়ে এগুলো ডাক্তারকে লিভারের প্রদাহ, পিত্ত চলাচলে বাধা এবং লিভারের প্রোটিন তৈরির সমস্যা খুঁজতে সাহায্য করে।
- ক্রিয়েটিন কাইনেজ (CK, CPK)ক্রিয়েটিন কাইনেজ (CK), যাকে CPK-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত হাড়ের সঙ্গে যুক্ত পেশিতে থাকে; অল্প পরিমাণে হার্ট ও মস্তিষ্কেও থাকে। পেশিতে আঘাত বা প্রদাহ হলে CK রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। আঘাত, ভারী ব্যায়াম, প্রদাহ, বংশগত পেশির রোগ বা কিছু ওষুধ, যে কারণেই হোক, পেশির ক্ষতি খুঁজে বের করতে ও নজরে রাখতে এই টেস্ট ডাক্তারকে সাহায্য করে।
- SGOT (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ, AST)SGOT, যাকে AST (অ্যাসপারটেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ)-ও বলা হয়, একটি এনজাইম, যা মূলত লিভারে থাকে, তবে হার্ট, পেশি ও লোহিত রক্তকণিকাতেও থাকে। এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে AST রক্তে বেরিয়ে আসে এবং এর মাত্রা বাড়ে। এটি শুধু লিভারে থাকে না বলে ডাক্তাররা সাধারণত AST-কে ALT (SGPT)-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, যা লিভারের জন্য বেশি নির্দিষ্ট।
অনেকে যা জানতে চান
LDH বেশি হওয়ার মানে কী?
এর মানে শরীরের কোথাও কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। LDH অনেক রকম টিস্যুতে থাকে বলে ডাক্তার অন্য টেস্ট ও আপনার উপসর্গ দেখে উৎস খুঁজে বের করবেন।
LDH কি ক্যানসারের টেস্ট?
না। কিছু ক্যানসারে LDH বাড়তে পারে এবং সেগুলো পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহার হয়, কিন্তু আরও অনেক রোগেও এটি বাড়ে; তাই এ দিয়ে ক্যানসার নির্ণয় করা যায় না।
রক্তস্বল্পতায় LDH কেন দেখা হয়?
লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ভাঙলে তা থেকে LDH বেরিয়ে আসে। LDH বেশি হলে অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝা যেতে পারে যে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার কারণেই রক্তস্বল্পতা হয়েছে।
LDH টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৫৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি LDH টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
LDH-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
