ল্যাব টেস্ট · প্রস্রাব
ইউরিন কিটোন
কিটোন, ডায়াবেটিস ও উপবাস
- প্রস্রাবের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
কিটোন, ডায়াবেটিস ও উপবাস
শরীর সুগার (গ্লুকোজ) থেকে যথেষ্ট শক্তি না পেলে শক্তির জন্য চর্বি পোড়ায়, আর তখন কিটোন তৈরি হয়। ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের ঘাটতি হলে এমন হয়; আবার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে, অনেকক্ষণ ধরে বমি হলে বা খুব কম শর্করার খাবার খেলেও হয়। এই প্রস্রাবের টেস্টে দেখা হয় কিটোন আছে কি না এবং মোটামুটি কতটা, যা থেকে ডাক্তার বুঝতে পারেন শরীর কীভাবে সামলাচ্ছে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের সুগার বেশি হলে বা অসুস্থ বোধ করলে
- ডায়াবেটিস আছে এমন কারও বমি, পেটব্যথা বা দ্রুত শ্বাস হলে
- গর্ভাবস্থায় খুব বেশি বমি হলে
- শিশুর অনেকক্ষণ ধরে বমি হলে বা সে ঠিকমতো না খেলে
- দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে বা খুব কম শর্করার খাবার খেলে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
এই টেস্টের জন্য খালি পেটে থাকার দরকার নেই। আপনাকে দেওয়া জীবাণুমুক্ত পাত্রে মাঝের অংশের প্রস্রাব নিন, সকালের প্রথম প্রস্রাব হলে সবচেয়ে ভালো; তবে ডাক্তার অসুস্থ বোধ করার সময়ের নমুনা চাইলে সেভাবে দিন। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে ডায়াবেটিসের ওষুধসহ নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন।
বাড়িতে
- নমুনা
- প্রস্রাবের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- আপনাকে দেওয়া জীবাণুমুক্ত পাত্রটি ব্যবহার করুন। প্রথমে টয়লেটে প্রস্রাব করা শুরু করুন, মাঝের অংশ পাত্রে নিন, তারপর বাকিটা টয়লেটে শেষ করুন। ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করে পাত্রটি বাড়িতে আসা সংগ্রাহকের হাতে দিন।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে কিটোন নেগেটিভ হিসেবে, অথবা পরিমাণের ধাপ অনুযায়ী লেখা থাকে, যেমন ট্রেস (খুব সামান্য), অল্প, মাঝারি বা বেশি। না খেয়ে থাকার পর বা বমির পর অল্প পরিমাণ দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের সুগার বেশি থাকার সঙ্গে বেশি পরিমাণ কিটোন থাকলে তা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য জরুরি চিকিৎসা দরকার। ডাক্তার আপনার রক্তের সুগার ও উপসর্গের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ইউরিন কিটোন; প্রস্রাবের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ইউরিন সুগার (প্রস্রাবে গ্লুকোজ)প্রস্রাবে সুগার৳১০০
- ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন (Urine R/E)ইউরিন রুটিন এক্সামিনেশন বা প্রস্রাবের রুটিন টেস্টে (ইউরিনালাইসিস নামেও পরিচিত) আপনার প্রস্রাব তিনভাবে দেখা হয়: দেখতে কেমন, এর রাসায়নিক উপাদান (যেমন প্রোটিন, সুগার ও অম্লতা) এবং মাইক্রোস্কোপের নিচে কোনো কোষ, ক্রিস্টাল বা ব্যাকটেরিয়া আছে কি না। এটি একটি সহজ প্রাথমিক টেস্ট, যাতে প্রস্রাবের সংক্রমণ (ইনফেকশন), কিডনির সমস্যা বা রক্তে বেশি সুগারের লক্ষণ ধরা পড়তে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এটি প্রায়ই থাকে।
- র্যান্ডম ব্লাড সুগার (RBS)র্যান্ডম ব্লাড সুগার টেস্টে দিনের যেকোনো সময়ে আপনার রক্তের গ্লুকোজ (সুগার) মাপা হয়, শেষ কখন খেয়েছেন তা যা-ই হোক। রক্তের সুগার বেশি কি না তা দ্রুত দেখার এটি একটি উপায়, বিশেষ করে ডায়াবেটিসের উপসর্গ থাকলে। এতে খালি পেটে থাকতে হয় না, তাই খালি পেটের নমুনা দেওয়া সম্ভব না হলে এটি কাজে লাগে।
- HbA1c (গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন)HbA1c টেস্টে মাপা হয় আপনার লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের কতটুকুর সঙ্গে গ্লুকোজ (সুগার) লেগে আছে। লোহিত রক্তকণিকা প্রায় তিন মাস বাঁচে, তাই এটি এক দিনের নয়, গত দুই থেকে তিন মাসের রক্তের সুগারের গড় দেখায়। ডাক্তাররা টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস নির্ণয়ে সাহায্য পেতে এবং ডায়াবেটিস এত দিন কতটা নিয়ন্ত্রণে ছিল তা দেখতে এটি ব্যবহার করেন।
- সিরাম ইলেকট্রোলাইটএই টেস্টে আপনার রক্তের সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ও বাইকার্বোনেট মাপা হয়। এই ইলেকট্রোলাইটগুলো বৈদ্যুতিক চার্জ বহনকারী লবণ, যা শরীরে পানির ভারসাম্য, স্নায়ু ও পেশির কাজ, হৃৎস্পন্দন এবং রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিডনি এগুলোকে খুব সীমিত একটি পরিসরের মধ্যে রাখে, তাই মাত্রা অস্বাভাবিক হলে তা পানিশূন্যতা, কিডনির সমস্যা বা ওষুধের প্রভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS)কয়েক ঘণ্টা, সাধারণত সারা রাত, কিছু না খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ (সুগার) কত, এই টেস্টে তা মাপা হয়। না খেয়ে থাকলে রক্তের সুগার একটি স্থির মাত্রায় থাকার কথা, যা ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে রাখে। খালি পেটে মাত্রা বেশি হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে; আর জানা ডায়াবেটিস কতটা নিয়ন্ত্রণে আছে, ডাক্তার এই টেস্ট দিয়ে তা-ও দেখেন।
অনেকে যা জানতে চান
ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাবে কিটোন থাকার মানে কী?
এর মানে হতে পারে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি আছে এবং শরীর তার বদলে চর্বি ভাঙছে। রক্তের সুগার বেশি থাকলে এবং বমির মতো উপসর্গ থাকলে এ থেকে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হতে পারে, যার জন্য জরুরি চিকিৎসা দরকার।
না খেয়ে থাকলে কি প্রস্রাবে কিটোন আসতে পারে?
হ্যাঁ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে, রমজানের রোজাসহ, ডায়াবেটিস নেই এমন মানুষের প্রস্রাবেও সামান্য কিটোন আসতে পারে। সাধারণত এতে ক্ষতি নেই, তবে ডাক্তার সব কিছু মিলিয়ে দেখবেন।
রক্তের কিটোন টেস্ট কি প্রস্রাবের কিটোন টেস্টের চেয়ে ভালো?
রক্তের কিটোন টেস্ট এখনকার মাত্রা দেখায় এবং ডায়াবেটিসের জরুরি অবস্থা সামলাতে প্রায়ই এটিই বেশি পছন্দ করা হয়। প্রস্রাবের টেস্ট সহজ এবং দেখে নেওয়ার জন্য কাজের, তবে এতে আগের কয়েক ঘণ্টায় তৈরি হওয়া কিটোনের ছবি পাওয়া যায়।
কিটোন থাকলে কখন জরুরি সাহায্য নিতে হবে?
আপনার ডায়াবেটিস থাকলে এবং কিটোনের সঙ্গে বমি, পেটব্যথা, দ্রুত বা গভীর শ্বাস, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি থাকলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
ইউরিন কিটোন টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি ইউরিন কিটোন টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক প্রস্রাবের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
ইউরিন কিটোন-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
