ল্যাব টেস্ট · রক্তের টেস্ট
G6PD (কোয়ান্টিটেটিভ)
বংশগত এনজাইম ঘাটতি (জি৬পিডি)
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২ দিন সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
বংশগত এনজাইম ঘাটতি (জি৬পিডি)
G6PD (গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজ) একটি এনজাইম, যা লোহিত রক্তকণিকাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। কেউ কেউ জন্মগতভাবে এই এনজাইম কম পান; একে G6PD-র ঘাটতি (G6PD ডেফিসিয়েন্সি) বলা হয় এবং এটি পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এঁদের ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ, ফাভা বিন (এক ধরনের শিম) বা সংক্রমণের কারণে লোহিত রক্তকণিকা হঠাৎ ভেঙে যেতে পারে, যা থেকে রক্তস্বল্পতা ও জন্ডিস হয়। এই টেস্টে মাপা হয় আপনার লোহিত রক্তকণিকায় G6PD কতটা সক্রিয়।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- কিছু ওষুধ, ফাভা বিন বা সংক্রমণের পর জন্ডিস বা গাঢ় প্রস্রাব হলে
- G6PD-র ঘাটতি থাকলে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে দিতে পারে এমন ওষুধ, যেমন ম্যালেরিয়ার Primaquine, দেওয়ার আগে
- নবজাতকের জন্ডিস তীব্র হলে বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দিন থাকলে
- পরিবারে G6PD-র ঘাটতি থাকলে
- কারণ জানা নেই এমন রক্তস্বল্পতা হলে, যা লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার (হিমোলাইসিস) ফলে হচ্ছে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকতে হয় না। সম্প্রতি আপনার লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে বা রক্ত নিয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান, কারণ এরপর কিছুদিন ফলাফল ভুলভাবে স্বাভাবিক দেখাতে পারে এবং কয়েক মাস পর আবার টেস্ট করতে হতে পারে।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- একজন প্রশিক্ষিত সংগ্রাহক বাড়িতে আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প রক্তের নমুনা নেন; কয়েক মিনিট লাগে। টেস্টটি শিশু বা ছোট বাচ্চার জন্য হলে বুক করার সময় তা জানান।
- রিপোর্ট
- ২ দিন সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে আপনার G6PD-র সক্রিয়তা ল্যাবের স্বাভাবিক সীমার সঙ্গে তুলনা করে দেখানো হয়। মাত্রা কম হলে G6PD-র ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়; এটি সারা জীবন থাকে, তবে জানা কারণগুলো এড়িয়ে চললে প্রায়ই কোনো সমস্যা হয় না। নারীদের মাত্রা মাঝামাঝি হতে পারে। ডাক্তার ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন এবং আপনার এই ঘাটতি থাকলে কোন কোন ওষুধ ও খাবার এড়িয়ে চলতে হবে তা বুঝিয়ে দিতে পারবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: G6PD (কোয়ান্টিটেটিভ); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- রেটিকুলোসাইট কাউন্টরেটিকুলোসাইট হলো অল্প বয়সী লোহিত রক্তকণিকা, যা সবেমাত্র অস্থিমজ্জা থেকে বের হয়েছে; এক-দুই দিনের মধ্যে এগুলো পূর্ণাঙ্গ লোহিত রক্তকণিকা হয়ে ওঠে। এগুলো গুনলে বোঝা যায় আপনার অস্থিমজ্জা কতটা সক্রিয়ভাবে নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করছে। এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন রক্তস্বল্পতা অস্থিমজ্জা যথেষ্ট কোষ তৈরি না করার কারণে হচ্ছে, নাকি শরীর থেকে কোষ হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার কারণে।
- পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম (PBF)পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে পাতলা করে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের আকার, আকৃতি ও চেহারা দেখা যায়, যা শুধু মেশিনের গণনা থেকে পুরোপুরি জানা যায় না। এটি ডাক্তারকে রক্তস্বল্পতার (অ্যানিমিয়া) ধরন ও কারণ বের করতে এবং রক্তের অন্য রোগ খুঁজতে সাহায্য করে।
- সিরাম বিলিরুবিন (টোটাল)বিলিরুবিন একটি হলুদ রঞ্জক, যা পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে তৈরি হয়। লিভার এটিকে প্রক্রিয়াজাত করে পিত্তে পাঠায়, আর পিত্ত পায়খানার সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিন খুব বেশি তৈরি হলে, অথবা লিভার তা প্রক্রিয়াজাত করতে বা বের করে দিতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বাড়ে এবং ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে (জন্ডিস)। এই টেস্টে আপনার রক্তে মোট বিলিরুবিনের পরিমাণ মাপা হয়।
- ডাইরেক্ট কুম্বস টেস্ট (ডাইরেক্ট অ্যান্টিগ্লোবুলিন টেস্ট)লোহিত কণিকার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি৳৩৫০
- ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট (MP) ব্লাড ফিল্মএই টেস্টে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে ম্যালেরিয়ার জীবাণু (প্যারাসাইট) খোঁজা হয়। এতে দেখা যায় কোন ধরনের ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে এবং মোটামুটি কতগুলো, যা ডাক্তারকে চিকিৎসা বেছে নিতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া মূলত দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য জেলাগুলোতে এবং কিছু সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়, তাই সম্প্রতি কোথায় গিয়েছিলেন তা রোগের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনেকে যা জানতে চান
G6PD-র ঘাটতি থাকলে কী কী এড়িয়ে চলা উচিত?
সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে ফাভা বিন, ন্যাপথলিনযুক্ত পোকা তাড়ানোর গুলি (মথবল) এবং কিছু ওষুধ, যার মধ্যে ম্যালেরিয়ার কিছু ওষুধ ও নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আছে। আপনার G6PD-র ঘাটতি আছে, এ কথা ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টকে সব সময় জানান।
G6PD-র ঘাটতি পুরুষদের মধ্যে বেশি কেন?
জিনটি এক্স ক্রোমোজোমে থাকে; তাই যেসব পুরুষের এই জিন আছে তাঁরা আক্রান্ত হন, আর নারীরা বেশির ভাগ সময় বাহক হন, যদিও কিছু নারীও আক্রান্ত হন।
লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ঘটনার পর কি টেস্টের ফলাফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে?
হ্যাঁ। লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার পর যে নতুন, অল্প বয়সী কোষ সেগুলোর জায়গা নেয়, তাতে এনজাইমটি বেশি থাকে, তাই ফলাফল স্বাভাবিক দেখাতে পারে। ডাক্তার কয়েক মাস পর আবার টেস্ট করতে বলতে পারেন।
G6PD টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳১,১৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি G6PD টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
G6PD-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২ দিন সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
