ল্যাব টেস্ট · হরমোন
প্রোজেস্টেরন
ডিম্বস্ফোটন ও গর্ভাবস্থার হরমোন
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
ডিম্বস্ফোটন ও গর্ভাবস্থার হরমোন
প্রোজেস্টেরন একটি হরমোন, যা মূলত ডিম্বস্ফোটনের (ওভুলেশন) পর ডিম্বাশয় তৈরি করে। এটি সম্ভাব্য গর্ভধারণের জন্য জরায়ুর ভেতরের আস্তরণকে প্রস্তুত করে এবং গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে তা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ডিম্বাণু বের হওয়ার পরই শুধু প্রোজেস্টেরন স্পষ্টভাবে বাড়ে, তাই মাসিক চক্রের সঠিক সময়ে রক্তে এর মাত্রা দেখলে ডাক্তার বুঝতে পারেন ডিম্বস্ফোটন হয়েছে কি না।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার সময় আপনার ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে কি না দেখতে
- অনিয়মিত মাসিক বা গর্ভধারণে সমস্যার কারণ খুঁজতে
- বন্ধ্যত্বের কিছু চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করতে
- গর্ভাবস্থার শুরুতে রক্তপাত বা ব্যথার মতো দুশ্চিন্তার কিছু থাকলে, অন্য টেস্টের সঙ্গে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
খালি পেটে থাকতে বা বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না। সময়টি গুরুত্বপূর্ণ: ডিম্বস্ফোটন দেখতে নমুনা সাধারণত পরের মাসিক শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখের প্রায় এক সপ্তাহ আগে নেওয়া হয়, তাই ডাক্তার যে দিন বলেন সেই দিনে সংগ্রহ বুক করুন। প্রোজেস্টেরন সাপ্লিমেন্টসহ কোনো হরমোনের ওষুধ নিলে ডাক্তারকে জানান।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- ডাক্তার যে দিন বলেছেন সেই দিনের জন্য সংগ্রহ বুক করুন। একজন প্রশিক্ষিত সংগ্রাহক বাড়িতে আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন, আর পুরো কাজে কয়েক মিনিট লাগে।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
প্রোজেস্টেরনের রিপোর্টে মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায় ও গর্ভাবস্থার জন্য আলাদা সীমা দেওয়া থাকে। চক্রের দ্বিতীয়ার্ধে মাত্রা স্পষ্টভাবে বেশি হলে বোঝা যায় ডিম্বস্ফোটন হয়েছে; আর মাত্রা কম হলে এর মানে হতে পারে সেই মাসে ডিম্বস্ফোটন হয়নি, অথবা নমুনা ভুল সময়ে নেওয়া হয়েছে। চক্র মাসে মাসে আলাদা হয়, তাই কখনো কখনো টেস্টটি আবার করা হয়। ডাক্তার আপনার চক্রের তারিখ ও অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: প্রোজেস্টেরন; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- ইস্ট্রাডিওল (E2)নারী হরমোনের (ইস্ট্রোজেন) মাত্রা৳৭৫০
- লুটিনাইজিং হরমোন (LH)LH একটি হরমোন, যা পিটুইটারি গ্রন্থি তৈরি করে। নারীদের মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে LH হঠাৎ বেড়ে গেলে ডিম্বস্ফোটন (ওভুলেশন) হয়, অর্থাৎ ডিম্বাণু বের হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে LH অণ্ডকোষকে টেস্টোস্টেরন তৈরির সংকেত দেয়। সন্তান ধারণের ক্ষমতা, মাসিক, বয়ঃসন্ধি ও হরমোনের ভারসাম্য খতিয়ে দেখতে ডাক্তার এটি মাপেন, সাধারণত FSH-এর সঙ্গে।
- ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH)প্রজনন ও মেনোপজ হরমোন৳৫০০
- বিটা hCG রক্তের টেস্ট (কোয়ান্টিটেটিভ)বিটা hCG টেস্টে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিনের সঠিক পরিমাণ মাপা হয়; এটি গর্ভাবস্থার হরমোন, যা নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে বসার পর গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) তৈরি করে। এতে শুধু হ্যাঁ বা না নয়, একটি সংখ্যা পাওয়া যায়, তাই প্রস্রাবের বেশির ভাগ টেস্টের চেয়ে আগে এতে গর্ভধারণ ধরা পড়ে। গর্ভাবস্থার শুরুটা প্রত্যাশামতো এগোচ্ছে কি না দেখতে ডাক্তাররা কয়েক দিনের ব্যবধানে নেওয়া ফলাফলও তুলনা করেন।
- অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (AMH)ডিম্বাণুর মজুত, নারীর প্রজনন ক্ষমতা৳২,৩৫০
- প্রোল্যাকটিনপ্রজনন ও বুকের দুধের হরমোন৳৫৫০
অনেকে যা জানতে চান
প্রোজেস্টেরন টেস্ট কখন করা উচিত?
ডিম্বস্ফোটন নিশ্চিত করতে এটি সাধারণত পরের মাসিকের সম্ভাব্য তারিখের প্রায় সাত দিন আগে করা হয়। নিয়মিত ২৮ দিনের চক্রে এটি ২১তম দিনের কাছাকাছি পড়ে, তাই একে প্রায়ই ‘ডে ২১ প্রোজেস্টেরন টেস্ট’ বলা হয়।
একবার প্রোজেস্টেরন কম আসা মানে কি আমি গর্ভধারণ করতে পারব না?
না। সবার প্রতিটি চক্রে ডিম্বস্ফোটন হয় না, আর নমুনা খুব আগে বা খুব দেরিতে নিলেও মাত্রা কম দেখাতে পারে। ডাক্তার অন্য কোনো চক্রে টেস্টটি আবার করাতে পারেন।
গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রোজেস্টেরন কেন দেখা হয়?
কিছু ক্ষেত্রে, যেমন গর্ভাবস্থার শুরুতে রক্তপাত বা ব্যথা হলে, স্ক্যান ও hCG টেস্টের পাশাপাশি প্রোজেস্টেরন গর্ভাবস্থার অবস্থা মূল্যায়নে ডাক্তারকে সাহায্য করতে পারে। শুধু এটির ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
প্রোজেস্টেরন টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৫৫০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি প্রোজেস্টেরন টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
প্রোজেস্টেরন-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
