ল্যাব টেস্ট · রক্তের টেস্ট
হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস
থ্যালাসেমিয়া ও হিমোগ্লোবিনের ধরন
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ৩ দিন সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
থ্যালাসেমিয়া ও হিমোগ্লোবিনের ধরন
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন, যা অক্সিজেন বহন করে। এই টেস্টে আপনার রক্তের বিভিন্ন ধরনের হিমোগ্লোবিন, যেমন হিমোগ্লোবিন A, A2, F, E ও S, আলাদা করে মাপা হয়। এই ধরনগুলোর পরিবর্তন থেকে থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়তে পারে, যার মধ্যে আছে বাংলাদেশে বেশি দেখা যায় এমন বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট (বাহক) ও হিমোগ্লোবিন E; পাশাপাশি সিকল সেল রোগও ধরা পড়তে পারে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিক অথচ CBC-তে লোহিত রক্তকণিকা ছোট দেখা গেলে
- বিয়ে বা গর্ভধারণের আগে, আপনি থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না জানতে
- পরিবারে থ্যালাসেমিয়া বা হিমোগ্লোবিনের অন্য কোনো রোগের ইতিহাস থাকলে
- আয়রন খেয়েও রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) ভালো না হলে
- শিশুর দীর্ঘদিনের রক্তস্বল্পতা থাকলে, বিশেষ করে পরিবারে এমন ইতিহাস থাকলে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
বিশেষ কোনো প্রস্তুতির দরকার নেই, আর আগে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। গত কয়েক মাসের মধ্যে রক্ত নিয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান, কারণ অন্যের দেওয়া রক্ত আপনার নিজের হিমোগ্লোবিনের ধরন আড়াল করতে পারে। আয়রনের অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ডাক্তার আপনার আয়রনের মাত্রাও দেখে নিতে পারেন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- একজন প্রশিক্ষিত সংগ্রাহক বাড়িতে আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন। বিয়ের আগে টেস্ট করাচ্ছেন এমন পাত্র-পাত্রী দুজনই একইভাবে বাড়িতে নমুনা দিতে পারেন।
- রিপোর্ট
- ৩ দিন সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে পাওয়া প্রতিটি ধরনের হিমোগ্লোবিনের অংশ এবং কোনো অস্বাভাবিক ধরন আছে কি না তা লেখা থাকে। হিমোগ্লোবিন A2 বেশি হলে সাধারণত বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট বোঝায়, আর হিমোগ্লোবিন E বা S থাকলে বাহক অবস্থা বা এ-সংক্রান্ত কোনো রোগ বোঝায়। কিছু ধরনের থ্যালাসেমিয়া, বিশেষ করে আলফা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট, এই টেস্টে ধরা না-ও পড়তে পারে এবং তার জন্য জেনেটিক টেস্ট লাগে। ডাক্তার ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন; আর স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাহক হলে জেনেটিক কাউন্সেলিং তাঁদের সাহায্য করতে পারে।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম (PBF)পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মে আপনার এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে পাতলা করে ছড়িয়ে, রং করে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের আকার, আকৃতি ও চেহারা দেখা যায়, যা শুধু মেশিনের গণনা থেকে পুরোপুরি জানা যায় না। এটি ডাক্তারকে রক্তস্বল্পতার (অ্যানিমিয়া) ধরন ও কারণ বের করতে এবং রক্তের অন্য রোগ খুঁজতে সাহায্য করে।
- আয়রন প্রোফাইল (আয়রন স্টাডিজ)আয়রন প্রোফাইল হলো কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি, যা দেখায় আপনার শরীরে কতটা আয়রন আছে এবং তা কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এতে থাকে সিরাম আয়রন, টোটাল আয়রন-বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি (TIBC), ট্রান্সফেরিন স্যাচুরেশন ও ফেরিটিন; ফেরিটিন শরীরে জমা আয়রনের পরিমাণ দেখায়। চারটি মিলিয়ে দেখলে ডাক্তার বুঝতে পারেন আপনার আয়রনের ঘাটতি আছে, আয়রন অতিরিক্ত আছে, নাকি অন্য কোনো কারণে রক্তস্বল্পতা হয়েছে।
- সিরাম ফেরিটিনফেরিটিন একটি প্রোটিন, যা শরীরের কোষের ভেতরে আয়রন জমা রাখে; রক্তে এর যে অল্প পরিমাণ থাকে, তা থেকে বোঝা যায় আপনার শরীরে কতটা আয়রন জমা আছে। ফেরিটিন কম হওয়া আয়রনের ঘাটতির একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ, যা প্রায়ই রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেওয়ার আগেই ধরা পড়ে। প্রদাহ, সংক্রমণ ও লিভারের রোগেও ফেরিটিন বাড়ে, তাই ডাক্তার অন্য টেস্টের সঙ্গে মিলিয়ে এটি দেখেন।
- বিয়ের আগের স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং প্যাকেজএই প্যাকেজ বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন নারী ও পুরুষের জন্য; এতে বংশগত রক্তের রোগ ও সংক্রমণের ওপর জোর দেওয়া হয়। হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসে দেখা হয় আপনি থ্যালাসেমিয়া বা হিমোগ্লোবিন ই-র বাহক কি না, আর প্যাকেজে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি ও সিফিলিসের স্ক্রিনিং করা হয়। এতে anti-HBs টেস্টও আছে, যা দেখায় আপনি হেপাটাইটিস বি থেকে সুরক্ষিত কি না, যেমন টিকা নেওয়ার পর; ফলে যে সঙ্গী সুরক্ষিত নন, তিনি টিকা নিতে পারেন।
- G6PD (কোয়ান্টিটেটিভ)বংশগত এনজাইম ঘাটতি (জি৬পিডি)৳১,১৫০
অনেকে যা জানতে চান
বিয়ের আগে কি পাত্র-পাত্রীর এই টেস্ট করা উচিত?
যেখানে থ্যালাসেমিয়া বেশি দেখা যায়, বাংলাদেশসহ, সেখানে প্রায়ই এই পরামর্শ দেওয়া হয়। দুজনই বাহক হলে প্রতিবার গর্ভধারণে সন্তানের গুরুতর ধরনের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রতি চারে এক; আর আগে জানা থাকলে দম্পতিরা জেনেবুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
থ্যালাসেমিয়া ট্রেইটকে কি আয়রনের অভাব বলে ভুল হতে পারে?
হ্যাঁ। দুটিতেই লোহিত রক্তকণিকা ছোট হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট আয়রন খেলে ভালো হয় না, তাই টেস্ট করলে অকারণে আয়রন খাওয়া এড়ানো যায়।
ইলেকট্রোফোরেসিস আর HPLC-র পার্থক্য কী?
দুটিতেই হিমোগ্লোবিনের ধরনগুলো আলাদা করা হয়। HPLC তুলনামূলক নতুন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি, যা অনেক ল্যাব ব্যবহার করে; এর ফলাফলও প্রায়ই হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস নামেই রিপোর্ট করা হয়।
Hb ইলেকট্রোফোরেসিস টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৮০০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি Hb ইলেকট্রোফোরেসিস টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
Hb ইলেকট্রোফোরেসিস-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ৩ দিন সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
