ল্যাব টেস্ট · রক্তের টেস্ট
D-dimer টেস্ট
রক্ত জমাট (ক্লট) পরীক্ষা
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
রক্ত জমাট (ক্লট) পরীক্ষা
D-dimer প্রোটিনের একটি ছোট টুকরা, যা জমাট বাঁধা রক্ত ভেঙে গেলে রক্তে আসে। এর মাত্রা সাধারণত কম থাকে, আর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও ভাঙা চলতে থাকলে তা বাড়ে। ফলাফল স্বাভাবিক হলে ডাক্তাররা পায়ের ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) বা ফুসফুসের পালমোনারি এমবোলিজমের (PE) মতো রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা নেই বলে ধরে নিতে সাহায্য পান। ফলাফল বেশি হলে তা থেকে নির্দিষ্ট কিছু বোঝা যায় না এবং সাধারণত আরও টেস্ট লাগে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- এক পা ফুলে গেলে, ব্যথা হলে বা লাল হলে রক্ত জমাট বাঁধেনি তা নিশ্চিত হতে সাহায্য করতে
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা থাকলে ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধেনি তা নিশ্চিত হতে সাহায্য করতে
- ডিসেমিনেটেড ইন্ট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন (DIC) নামের রক্ত জমাট বাঁধার একটি গুরুতর সমস্যা মূল্যায়ন করতে
- COVID-19-সহ কিছু গুরুতর সংক্রমণে রক্ত জমাট বাঁধার অবস্থা মূল্যায়নে সাহায্য করতে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
বিশেষ কোনো প্রস্তুতির দরকার নেই; স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে, গর্ভবতী হলে, অথবা সম্প্রতি অপারেশন হলে বা আঘাত পেলে সংগ্রাহককে জানান। হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে বাড়িতে টেস্টের অপেক্ষায় না থেকে জরুরি চিকিৎসা নিন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার টেস্টের টিউবে রাখেন। টিউবটি সঠিক দাগ পর্যন্ত ভরতে হয়, আর সঙ্গে সঙ্গেই সিল করে লেবেল লাগানো হয়। কয়েক মিনিট লাগে।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
D-dimer স্বাভাবিক হলে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা কম, বিশেষ করে যখন ডাক্তার আগে থেকেই সম্ভাবনা কম মনে করছেন। মাত্রা বেশি হওয়ার কারণ রক্ত জমাট বাঁধা হতে পারে, তবে গর্ভাবস্থা, সাম্প্রতিক অপারেশন বা আঘাত, সংক্রমণ, প্রদাহ, ক্যানসার অথবা শুধু বেশি বয়সের কারণেও হতে পারে। তাই ফলাফল বেশি হওয়া মানেই রোগ নির্ণয় নয়। ডাক্তার এটি ব্যাখ্যা করবেন এবং স্ক্যানের ব্যবস্থা করতে পারেন, যেমন পায়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম বা বুকের সিটি স্ক্যান।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: D-dimer টেস্ট; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- প্রোথ্রম্বিন টাইম ও INR (PT/INR)প্রোথ্রম্বিন টাইম (PT) টেস্টে মাপা হয় আপনার রক্ত জমাট বাঁধতে কত সময় লাগে। INR (ইন্টারন্যাশনাল নরমালাইজড রেশিও) হলো PT জানানোর একটি মানসম্মত পদ্ধতি, যাতে ভিন্ন ভিন্ন ল্যাবের ফলাফল তুলনা করা যায়। টেস্টটি লিভারে তৈরি রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানগুলো দেখে, যার কয়েকটির জন্য ভিটামিন কে লাগে। ডাক্তাররা এটি ব্যবহার করেন Warfarin-এর প্রভাব পর্যবেক্ষণে, অপারেশনের আগে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা দেখতে এবং লিভারের কাজ মূল্যায়নে সাহায্য পেতে।
- অ্যাক্টিভেটেড পার্শিয়াল থ্রম্বোপ্লাস্টিন টাইম (APTT)APTT-তে মাপা হয় ল্যাবে আপনার রক্তের তরল অংশ (প্লাজমা) জমাট বাঁধতে কত সেকেন্ড লাগে। এতে রক্ত জমাট বাঁধানোর একদল প্রোটিন পরীক্ষা করা হয়, যাদের ক্লটিং ফ্যাক্টর বলে; এরা একসঙ্গে কাজ করে রক্তপাত বন্ধ করে। রক্ত জমাট বাঁধার পুরো ব্যবস্থা দেখতে এটি প্রায়ই প্রোথ্রম্বিন টাইম (PT)-এর সঙ্গে করা হয়; রক্ত পাতলা করার ইনজেকশন Heparin পর্যবেক্ষণেও এটি ব্যবহার করা হয়।
- প্লাটিলেট কাউন্টপ্লাটিলেট কাউন্ট, রক্তপাত ও ডেঙ্গু৳১৫০
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা CBC টেস্টে রক্তের প্রধান তিন ধরনের কোষ দেখা হয়: লোহিত রক্তকণিকা, যা অক্সিজেন বহন করে; শ্বেত রক্তকণিকা, যা সংক্রমণের (ইনফেকশন) বিরুদ্ধে লড়ে; আর প্লাটিলেট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে হিমোগ্লোবিনও মাপা হয়; এটি অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। এটি সবচেয়ে বেশি করা রক্তের টেস্টগুলোর একটি, আর এ থেকে ডাক্তার আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি মোটামুটি ধারণা পান।
- সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP), কোয়ান্টিটেটিভসি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP) একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ হলে লিভার তৈরি করে। সংক্রমণ বা আঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর মাত্রা বাড়তে পারে, আর সমস্যা কমে এলে আবার কমে যায়। কোয়ান্টিটেটিভ CRP টেস্টে সঠিক মাত্রাটি পাওয়া যায়; এতে ডাক্তার বুঝতে পারেন প্রদাহ কতটা, সংক্রমণটি ব্যাকটেরিয়াজনিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কি না, এবং চিকিৎসা কাজ করছে কি না।
- COVID-19 RT-PCR টেস্টCOVID-19 RT-PCR টেস্টে নাক বা গলা থেকে নেওয়া সোয়াবে SARS-CoV-2-এর জেনেটিক উপাদান খোঁজা হয়; এই ভাইরাস থেকেই COVID-19 (করোনা) হয়। চলমান সংক্রমণ ধরার জন্য এটিই মানদণ্ড টেস্ট, আর এটি অল্প পরিমাণ ভাইরাসও ধরতে পারে, এমনকি যাঁদের উপসর্গ মৃদু বা একেবারেই নেই তাঁদের ক্ষেত্রেও। ডাক্তাররা COVID-19 নির্ণয় করতে এবং র্যাপিড টেস্টের ফলাফল নিশ্চিত করতে এটি ব্যবহার করেন।
অনেকে যা জানতে চান
D-dimer বেশি হওয়ার মানে কী?
এর মানে শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জমাট রক্ত ভাঙছে। রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এমন হতে পারে, তবে আরও অনেক সমস্যাতেও D-dimer বাড়ে, তাই কারণ জানতে ডাক্তারের স্ক্যান দরকার হতে পারে।
D-dimer স্বাভাবিক হলে কি রক্ত জমাট বাঁধেনি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়?
ডাক্তারের মূল্যায়নে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা কম মনে হলে D-dimer স্বাভাবিক থাকা মানে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা খুবই কম। সম্ভাবনা বেশি হলে D-dimer যা-ই দেখাক, ডাক্তার স্ক্যানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় কি D-dimer বেশি থাকে?
হ্যাঁ। গর্ভাবস্থায় D-dimer স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে, তাই ফলাফল দেখার সময় ডাক্তাররা এটি বিবেচনায় নেন।
D-dimer টেস্ট টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳৯১০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি D-dimer টেস্ট টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
D-dimer টেস্ট-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
