ল্যাব টেস্ট · কিডনি
সিস্টাটিন সি
কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে থাকতে হবে না
- রিপোর্ট ২ দিন সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা
সিস্টাটিন সি একটি ছোট প্রোটিন, যা শরীরের প্রায় সব কোষ একটি স্থির হারে তৈরি করে এবং কিডনি রক্ত থেকে সরিয়ে দেয়। কিডনি কম ভালোভাবে ছাঁকলে রক্তে সিস্টাটিন সি জমতে থাকে। ক্রিয়েটিনিনের মতো এটি পেশির পরিমাণের ওপর তেমন নির্ভর করে না, তাই এটি ডাক্তারকে কিডনির ছাঁকার হার (eGFR) অনুমান করার আরেকটি উপায় দেয়, বিশেষ করে যখন ক্রিয়েটিনিনের ফলাফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- ক্রিয়েটিনিনভিত্তিক eGFR সীমারেখায় বা অস্পষ্ট হলে কিডনির কাজ নিশ্চিত করতে
- যাঁদের পেশি অস্বাভাবিক কম বা বেশি, যেমন দুর্বল বয়স্ক মানুষ বা খুব পেশিবহুল মানুষ
- মৃদু দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ সত্যিই আছে কি না ঠিক করতে সাহায্য করতে
- কিছু চিকিৎসার আগে কিডনির ছাঁকার ক্ষমতার সঠিক হিসাব দরকার হলে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: লাগবে না.
সিস্টাটিন সি টেস্টের আগে খালি পেটে থাকতে বা বিশেষ কিছু করতে হয় না। নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন, তবে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেলে বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান, কারণ এগুলো সিস্টাটিন সি-র মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক আপনার কাছে এসে হাতের শিরা থেকে অল্প রক্ত নেন। ডাক্তার ক্রিয়েটিনিনও করতে বলে থাকলে সাধারণত একই সাক্ষাতে দুটিই করা যায়।
- রিপোর্ট
- ২ দিন সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
ফলাফলের সঙ্গে ল্যাবের স্বাভাবিক সীমা দেওয়া থাকে, আর প্রায়ই এ থেকে এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট (eGFR) হিসাব করা হয়। সিস্টাটিন সি বেশি হওয়া মানে সাধারণত কিডনি কম ভালোভাবে ছাঁকছে। আরও সঠিক হিসাবের জন্য ডাক্তার এটিকে ক্রিয়েটিনিনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন, আর এটিকে আলাদাভাবে না দেখে আপনার প্রস্রাবের টেস্ট, ব্লাড প্রেশার ও রোগের ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: সিস্টাটিন সি; রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- সিরাম ক্রিয়েটিনিনক্রিয়েটিনিন একটি বর্জ্য পদার্থ, যা পেশির স্বাভাবিক ক্ষয় থেকে তৈরি হয়। সুস্থ কিডনি এটি রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবে বের করে দেয়, তাই কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে এর মাত্রা বাড়ে। কিডনি কেমন কাজ করছে তা দেখার প্রধান রক্তের টেস্ট এটি, আর অনেক ল্যাব এ থেকে এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট (eGFR) হিসাব করে; এটি দেখায় কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত ছাঁকছে।
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)কিডনি ফাংশন টেস্ট, যাকে রেনাল ফাংশন টেস্ট (RFT)-ও বলা হয়, কয়েকটি রক্তের টেস্টের সমষ্টি। এটি দেখায় আপনার কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য কতটা ভালোভাবে ছেঁকে বের করছে। এতে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন মাপা হয়, যা কিডনি ভালো কাজ না করলে রক্তে জমে; সঙ্গে মাপা হয় ইউরিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট, যেগুলোর ভারসাম্য কিডনি ঠিক রাখে। এটি ডাক্তারকে কিডনির সমস্যা শুরুতেই ধরতে এবং সময়ের সঙ্গে তা নজরে রাখতে সাহায্য করে।
- ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও (ACR)এই টেস্টে প্রস্রাবের একটি নমুনায় অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের পরিমাণের সঙ্গে ক্রিয়েটিনিন নামের বর্জ্য পদার্থের পরিমাণের তুলনা করা হয়। সুস্থ কিডনি প্রস্রাবে খুব সামান্য অ্যালবুমিন যেতে দেয়, তাই এই অনুপাত বেড়ে যাওয়া কিডনির ক্ষতির সবচেয়ে আগের লক্ষণগুলোর একটি। অনুপাত ব্যবহার করলে প্রস্রাব কতটা ঘন বা পাতলা তার প্রভাব বাদ পড়ে, তাই সারা দিনের প্রস্রাব জমানোর বদলে একবারের নমুনাই ব্যবহার করা যায়।
- ব্লাড ইউরিয়াইউরিয়া একটি বর্জ্য পদার্থ, যা শরীর প্রোটিন ভাঙলে লিভারে তৈরি হয়। এটি রক্তের সঙ্গে কিডনিতে যায়, আর কিডনি তা প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। কিডনি কতটা ভালো কাজ করছে তা দেখতে এই টেস্টে রক্তের ইউরিয়া মাপা হয়; শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক আছে কি না এবং আপনি কতটা প্রোটিন খাচ্ছেন, তারও আভাস এতে পাওয়া যায়।
- সিরাম ক্লোরাইডলবণ ও পানির ভারসাম্য৳১৫০
- সিরাম সোডিয়াম (Na)সোডিয়ামের (লবণ) মাত্রা৳১৯০
অনেকে যা জানতে চান
সিস্টাটিন সি ও ক্রিয়েটিনিনের পার্থক্য কী?
দুটিই কিডনি শরীর থেকে সরিয়ে দেয় এবং দুটিই কিডনির কাজ অনুমান করতে ব্যবহার করা হয়। ক্রিয়েটিনিন আসে পেশি থেকে, তাই পেশির পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাস ও বয়সভেদে এটি বদলায়; আর সিস্টাটিন সি-র ওপর পেশির পরিমাণের প্রভাব অনেক কম।
সিস্টাটিন সি কি ক্রিয়েটিনিনের চেয়ে বেশি সঠিক?
যাঁদের পেশি অস্বাভাবিক বেশি বা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে। অনেক ডাক্তার দুটি একসঙ্গে ব্যবহার করেন, কারণ দুটি মিলিয়ে করা হিসাব প্রায়ই যেকোনো একটির চেয়ে বেশি সঠিক হয়।
কিডনি ছাড়া অন্য কিছু কি সিস্টাটিন সি বদলাতে পারে?
হ্যাঁ। থাইরয়েডের সমস্যা ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ এর মাত্রা বদলে দিতে পারে, তাই ফলাফল দেখার সময় ডাক্তার এগুলো বিবেচনায় নেন।
সিস্টাটিন সি টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳২,৫০০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি সিস্টাটিন সি টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
সিস্টাটিন সি-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২ দিন সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
