ল্যাব টেস্ট · হার্ট
ট্রাইগ্লিসারাইড (TG)
রক্তে চর্বির (ট্রাইগ্লিসারাইড) মাত্রা
- রক্তের নমুনা
- খালি পেটে: ১০ ঘণ্টা
- রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে
- বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
এই টেস্ট কিসের জন্য
রক্তে চর্বির (ট্রাইগ্লিসারাইড) মাত্রা
ট্রাইগ্লিসারাইড হলো রক্তে সবচেয়ে বেশি থাকা চর্বি। এটি আপনার খাবার থেকে আসে, লিভারও এটি তৈরি করে, আর শরীর এটিকে শক্তির উৎস হিসেবে জমিয়ে রাখে। এর মাত্রা বেশি হলে হৃদ্রোগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, আর খুব বেশি হলে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের সঙ্গে; তাই ডাক্তাররা লিপিড প্রোফাইলের অংশ হিসেবে এটি দেখেন।
ডাক্তার কেন এটি করাতে বলতে পারেন
- হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বুঝতে লিপিড প্রোফাইলের অংশ হিসেবে
- ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বা ফ্যাটি লিভার থাকলে অথবা বেশি অ্যালকোহল পান করলে
- রক্তের চর্বির ওপর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম বা ওষুধের প্রভাব দেখতে
- অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) সন্দেহ হলে, কারণ খুব বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড এর একটি কারণ হতে পারে
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
খালি পেটে: নমুনা দেওয়ার আগে ১০ ঘণ্টা কিছু খাবেন না; সাদা পানি খাওয়া যাবে.
খাওয়ার পর ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ে, তাই খালি পেটে থাকতে হয়: এই পেজে লেখা সময় পর্যন্ত শুধু সাদা পানি খাবেন। আগের দিন অ্যালকোহল এবং মিষ্টি বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ফলাফল বাড়িয়ে দিতে পারে। ডাক্তার অন্য কিছু না বললে নিয়মিত ওষুধ খেতে থাকুন।
বাড়িতে
- নমুনা
- রক্তের নমুনা
- যেভাবে কাজ করে
- সংগ্রাহক আপনার বাড়িতে এসে আপনি খালি পেটে থাকা অবস্থাতেই হাতের শিরা থেকে অল্প রক্তের নমুনা নেন, সাধারণত সকালে সবার আগে। কয়েক মিনিট লাগে, আর এর পরপরই আপনি খাওয়াদাওয়া করতে পারেন।
- রিপোর্ট
- ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে (নমুনা সংগ্রহের পর).
ফলাফলের মানে কী হতে পারে
রিপোর্টে ট্রাইগ্লিসারাইডের পাশে ল্যাবের স্বাভাবিক সীমা থাকে। অতিরিক্ত ওজন, নিয়ন্ত্রণে না থাকা ডায়াবেটিস, অ্যালকোহল, বেশি চিনি ও পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার, থাইরয়েড কম কাজ করা, কিডনির রোগ ও কিছু ওষুধের কারণে মাত্রা প্রায়ই বাড়ে; এটি বংশগতও হতে পারে। মাত্রা খুব বেশি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, কারণ এতে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। ডাক্তার আপনার কোলেস্টেরলের মান ও স্বাস্থ্যের অন্য বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করবেন।
যা যা আছে
একটি টেস্ট: ট্রাইগ্লিসারাইড (TG); রক্তের নমুনা।
সম্পর্কিত টেস্ট
- লিপিড প্রোফাইললিপিড প্রোফাইলে রক্তের চর্বি মাপা হয়: মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল (‘খারাপ’) কোলেস্টেরল, এইচডিএল (‘ভালো’) কোলেস্টেরল, ভিএলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড। সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত এলডিএল কোলেস্টেরল ধমনির দেয়ালে জমে ধমনি সরু করে দিতে পারে। ডাক্তার এই ফলাফলের সঙ্গে ব্লাড প্রেশার (রক্তচাপ), ডায়াবেটিস ও ধূমপানের মতো বিষয় মিলিয়ে আপনার হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনুমান করেন।
- টোটাল কোলেস্টেরলএই টেস্টে আপনার রক্তে মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ মাপা হয়; এতে ‘খারাপ’ এলডিএল কোলেস্টেরল, ‘ভালো’ এইচডিএল কোলেস্টেরল ও অন্য ধরনগুলো একসঙ্গে যোগ হয়। কোলেস্টেরল একটি চর্বিজাতীয় পদার্থ, যা কোষ গড়তে ও হরমোন তৈরি করতে শরীরের দরকার; কিন্তু বেশি হলে তা ধমনির দেয়ালে জমে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এটি একটি দ্রুত প্রাথমিক টেস্ট, আর পূর্ণ লিপিড প্রোফাইলে আরও বিস্তারিত জানা যায়।
- এইচডিএল কোলেস্টেরল (HDL)ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা৳১৭০
- এলডিএল কোলেস্টেরল (LDL)এলডিএল (LDL, লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) কোলেস্টেরলকে প্রায়ই ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বলা হয়। রক্তে এটি বেশি হলে ধমনির দেয়ালে জমে ধমনি সরু করে দিতে পারে, ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। হৃদ্রোগের ঝুঁকি বুঝতে এবং চিকিৎসা ঠিক করতে ও পর্যবেক্ষণ করতে ডাক্তাররা কোলেস্টেরলের মধ্যে প্রধানত এলডিএলের মানই দেখেন।
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS)কয়েক ঘণ্টা, সাধারণত সারা রাত, কিছু না খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ (সুগার) কত, এই টেস্টে তা মাপা হয়। না খেয়ে থাকলে রক্তের সুগার একটি স্থির মাত্রায় থাকার কথা, যা ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে রাখে। খালি পেটে মাত্রা বেশি হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে; আর জানা ডায়াবেটিস কতটা নিয়ন্ত্রণে আছে, ডাক্তার এই টেস্ট দিয়ে তা-ও দেখেন।
- HbA1c (গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন)HbA1c টেস্টে মাপা হয় আপনার লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের কতটুকুর সঙ্গে গ্লুকোজ (সুগার) লেগে আছে। লোহিত রক্তকণিকা প্রায় তিন মাস বাঁচে, তাই এটি এক দিনের নয়, গত দুই থেকে তিন মাসের রক্তের সুগারের গড় দেখায়। ডাক্তাররা টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস নির্ণয়ে সাহায্য পেতে এবং ডায়াবেটিস এত দিন কতটা নিয়ন্ত্রণে ছিল তা দেখতে এটি ব্যবহার করেন।
অনেকে যা জানতে চান
ট্রাইগ্লিসারাইড টেস্টের জন্য কেন খালি পেটে থাকতে হয়?
খাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে থাকে, বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত বা মিষ্টি খাবারের পর। খালি পেটে থাকলে একটি স্থির মূল মাত্রা পাওয়া যায়, যা এক টেস্টের সঙ্গে আরেক টেস্টে তুলনা করা যায়।
TG আর থাইরোগ্লোবুলিন কি একই?
না। লিপিডের রিপোর্টে TG মানে ট্রাইগ্লিসারাইড, রক্তের এক ধরনের চর্বি; আর থাইরোগ্লোবুলিন থাইরয়েডের একটি প্রোটিন, যা আলাদা টেস্টে মাপা হয়। কোনটি করতে বলা হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।
অ্যালকোহলে কি ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ে?
হ্যাঁ। অ্যালকোহল ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়াতে পারে, কখনো কখনো অনেক বেশি; তাই টেস্টের আগের দিন এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। আপনি সাধারণত কতটা পান করেন তা ডাক্তার জানতে চাইতে পারেন।
ট্রাইগ্লিসারাইডের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক কী?
রক্তে সুগার বেশি থাকলে এবং ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স) প্রায়ই ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ে। হার্টের যত্নের অংশ হিসেবে ডাক্তাররা ডায়াবেটিস রোগীদের ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়মিত দেখেন।
ট্রাইগ্লিসারাইড টেস্ট-এর খরচ কত?
Mukti Health-এ দাম ৳২০০, আর নমুনা সংগ্রহ করা হয় আপনার বাড়ি থেকে। Mukti Health অ্যাপে বুকিং নিশ্চিত করার আগে দাম আবার দেখতে পাবেন।
বাড়িতে বসে কি ট্রাইগ্লিসারাইড টেস্ট করানো যায়?
হ্যাঁ। Mukti Health অ্যাপে বুক করুন; একজন প্রশিক্ষিত নমুনা সংগ্রাহক রক্তের নমুনা নিতে আপনার বাড়িতে আসবেন। আপনাকে ল্যাবে যেতে হবে না।
ট্রাইগ্লিসারাইড-এর রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
